এনএনবি : দেশের গণমাধ্যমে বর্তমানে বেশ আলোচনায় রয়েছে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি এবং কলকাতায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ড। চলতি ঘটনা দুটি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের একটি কোর্সের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে। সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি ও এমপি আনার হত্যাকাণ্ডকে বিষয়বস্তু করে ক্রিটিক্যাল অ্যানালাইসিস করতে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষকের এমন সৃজনশীল প্রশ্নের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। এরপর একের পর এক ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নটি। ৩ জুন থেকে বিষয়টি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা। নেটিজেনদের অনেকেই এটিকে ‘প্রশ্নপত্রে শিক্ষকের সৃজনশীলতা’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা ওই কোর্সের শিক্ষকের প্রশংসা করে পোস্টও দিচ্ছেন।
তবে এমপি আনারের প্রথম প্রশ্নটি নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। এদের মধ্যে একজন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিজ খান। তিনি বলেন, প্রশ্নে সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে এমপি আনারের বিষয়টি এখনও প্রমাণিত নয়। সাংবাদিকতা নিয়ে ধারণা থাকলে প্রশ্নটি আরও সুন্দর হতো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) প্রথম সেমিস্টারের ৫০২ নম্বর কোর্সের প্রথম ও দ্বিতীয় মিডটার্ম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোর্সটির নাম ‘থিওরিস অব সোশ্যাল চেঞ্জ: ফ্রম মর্ডানিটি টু পোস্ট-মর্ডানিটি’। এ কোর্সটির শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
কোর্সটির প্রশ্নপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রথম প্রশ্নটি করা হয়েছে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে। কলকাতা পুলিশের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে ‘হানি-ট্র্যাপে বাংলাদেশি এমপি: ৫ কোটি টাকার চুক্তিতে হত্যা’ শিরোনামে খবরের কিছু অংশ তুলে দিয়ে তা বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে যে ধারা তা মার্কস, ফ্রয়েড, মারকুস এবং হার্ভের তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।
দুই নম্বর প্রশ্নে ‘সময় টিভি’র একটি সংবাদের বরাতে ‘বেনজীরের দুর্নীতি : সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় হবে কি?’ শিরোনামে বাংলাদেশের পুঁজিবাদী প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কস ও হার্ভের থিওরি অনুযায়ী বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, প্রশ্নপত্রের ছবি দিয়ে ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে অনেকে ওই শিক্ষকের প্রশংসা করেছেন। বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মারুফ রায়হান তার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ স্যার ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একটি রত্ন।’
তবে প্রথম দুটি প্রশ্ন নিয়ে অনেকে প্রশংসা করলেও একই প্রশ্নপত্রের পাঁচ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। সেখানে ‘অশ্লীলতা’ ও ‘স্পর্শকাতর’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে, আমি পড়াই সমাজ পরিবর্তনের কোর্স। সমাজ পরিবর্তনের কতগুলো থিওরি আছে- নিউলিভারিলিজমে সমাজ পরিবর্তন কীভাবে ঘটে, মানুষকে শোষণ করে সম্পদ কীভাবে আহরণ করে। চোরাকারবারি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ আহরণ- এই কারণেই আমার প্রশ্নটা করা। আমি এই উদাহরণ না দিলেও লোকজন (শিক্ষার্থীরা) এগুলোই লিখতো। এই উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যে, বর্তমান সম্পদ বা পুঁজি আহরণে চোরাকারবারি, দুর্নীতি, মানুষের সম্পদ, সরকারের সম্পদ আহরণ, ব্যাংক লুট একটি প্রক্রিয়া। এগুলো নিয়ে সরকারসহ সবাই কথা বলছে।’
