ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : ভাঙ্গুড়ায় ভূমি নামজারি করতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মূরারী মোহন সরকার ও আয়া কোহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারা দু’জনেই উপজেলার অষ্টমনীষা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত। নামজারি করতে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও মাসের পর মাস ঘুরতে হয় বলে অভিযোগ অনেক ভুক্তভোগী ভুমি মালিকদের। দুই বছর আগে ২৮ হাজার পাচঁশত টাকা ঘুষ দিয়ে নামজারি না হওয়ায় মাহফুজুর রহমান নামে একজন ভূমি মালিক সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সাথে তিনি এই অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের কাছে ডাকযোগে পাঠিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই বছর আগে মুরারী মোহন সরকার অষ্টমনীষা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন। সে সময় ভূমি নামজারির জন্য শতাধিক আবেদন পেন্ডিং অবস্থায় ছিল। এসব আবেদনের নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়ার কথা বলে মুরারী মোহন তার অফিসের আয়া কোহিনুর বেগমের সঙ্গে ভূমি মালিকদের যোগাযোগ করতে বলেন। কোহিনুর বেগম সকল ভুমি মালিকের কাছে ১০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। পরে ঘুষের বিষয়টি মুরারী মোহনকে জানালে কোহিনুরের সঙ্গে দফারপা করতে বলেন। এতে বাধ্য হয়ে ভুমি মালিকরা ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কোহিনুর বেগমের কাছে ঘুষ দেন। তবে দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও অনেকে এখনো নামজারি বুঝে পাননি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে ভূমি মালিকরা প্রতিদিনই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুরারী মোহনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। লিখিত অভিযোগকারী মাহফুজুর রহমান বলেন, দুই বছর আগে ইউনিয়নের লামকান মৌজায় ১১ বিঘা জমি চারটি খতিয়ানে নামজারি করার জন্য মুরারি মোহনের কাছে গেলে আয়া কোহিনুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কোহিনুর চল্লিশ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৩০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এরপর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মূরারী মোহনের অনুমতিতে দুই ধাপে মাহফুজুর রহমান ২৮ হাজার হাজার পাচঁশত টাকা কোহিনুর বেগমকে ঘুষ দেন। কিন্তু দুই বছর পার হলেও নামজারি কাজই শুরু করেননি মুরারী মোহন। এ কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগের পেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা। আরেক ভুক্তভোগী ইউনিয়নের ছোট বিশাকোল গ্রামের জুয়েল আহমেদ বলেন, ঘুষ না দিলে একটি কাজও করেন না ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। অনেক টাকা ঘুষ দিয়েও মাসের পর মাস ভূমি নামজারি করতে ঘুরছি। শুধু আমি নয়। অসংখ্য ভুমি মালিকদের একই অবস্থা। অভিযোগের বিষয়ে কোহিনুর বেগম বলেন, টাকা নেওয়া হয়েছে একটা সিস্টেমের মাধ্যমে। সিস্টেমটি মুরারী স্যার সম্পূর্ণ অবগত আছেন। আমি এর বাইরে কোন কথা বলবো না। এখন সবার সাথে আপোসের চেষ্টা করা হবে। তবে মুরারী মোহন সরকার বলেন, ‘অভিযোগ করলেই হবে না। প্রমাণ করতে হবে। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি। সহকারি কমিশনার (ভূমি) স্যারের কাছে এর জবাব দিয়েছি। অফিসের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মচারী টাকা নিলে সে দায়ভার আমার নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন।’ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বিপাশা হোসাইন অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে ওই ব্যক্তির নামজারির জন্য শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে। শুনানীতে হয়রানি করার অভিযোগ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
