বিশেষ প্রতিনিধি : শহরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন দীর্ঘ বছরের পুরনো বারোয়ারি মা মন্দিরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় মন্দির কমিটির সভাপতি উত্তম জোয়াদ্দার সকলকে জানিয়েছেন যে, সকল বিতর্কের অবসানকল্পে সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ করা হলেও সেখানে তিনি পরিবারসহ উঠবেন না। জীবনের বাকিটা সময় মন্দিরের উন্নয়নকাজে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে বিগত দিনের মতোই সকলের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে চান তিনি। মন্দির কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে মন্দিরে অনেক টাকা খরচ করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় এবং তিনি সেখানে পরিবাসহ অবস্থান করবেন ও মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে তিনিসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ কাজ করবেন তেমন সিদ্ধান্ত মন্দিরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সকলের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত ছিলো। এটিও তার ব্যক্তিগত বা একক কোনো সিদ্ধান্ত ছিলো না। মন্দিরটি সকলের প্রাণের জায়গা, এখানে ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহনের বা একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবার কোনো ধরনের সুযোগ নেই। কিন্তু পরবর্তিতে নানা স্থানে নানাজনে বিষয়টি নিয়ে কথা বা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানে তিনি পরিবারসহ উঠবেন না। তিনি বলেন, মন্দিরের সাথে সংশ্লিষ্ট একজনও যদি কোনো ধরনের আপত্তি জানান তা তিনি মেনে নেবেন বলে প্রথম থেকেই এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিলো ও এটি তিনি সকলকেই জানিয়ে রেখেছিলেন। এও বলেন, সারাজীবন বির্তকের উর্ধ্বে থেকে মন্দিরসহ পরিচিতজনদের খেদমতে কাজে লেগেছি, ফলে আগামী দিনেও সেও ধারা অব্যাহত রাখবো। তবে তিনি বিগত সভার সকলের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের কারনে নিজে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের কথার সৃষ্টি বা বিতর্ক কোনোভাবেই তিনি মেনে নিতে পারছেন না মানসিকভাবে, একারনে এর অবসানকল্পে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মন্দির পরিচালনা পরিষদের সাধারন সম্পাদক দেবজিত নাগ শংকরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মন্দিরের সদস্যবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, আসলে গত ৪ মে,২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্দিরের কার্যনির্বাহী পরিষদের বিগত সভায় আমাদের সকলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিলো যে, মন্দির কমিটির অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নাট মন্দিরের উপরে বাসস্থান তৈরি হবে, উক্ত বাসস্থান তৈরির সমুদয় অর্থ মন্দিরের সভাপতি উত্তম জোয়াদ্দার বহন করবেন (ফেরৎ প্রদান সাপেক্ষে)। যেহেতু উত্তম জোয়াদ্দার অনেক কষ্টে নিজ খরচে এই অবকাঠামো নির্মাণ করবেন, সেহেতু এই টাকা পরিশোধ না হওয়া অবধি স্বল্প ভাড়ায় তিনি সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করবেন। মন্দিরের প্রয়োজনে যে কোনো সময়ে উত্তম জোয়াদ্দার বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবেন (তার বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত সাপেক্ষে)। মন্দিরের নিত্যদিন সন্ধ্যা প্রদীপ জ¦ালানোসহ নিত্য পুজা উত্তম জোয়াদ্দার নিজ দায়িত্বে সম্পাদন করবেন। সভায় মন্দিরের সদস্যবৃন্দ বলেন, যেহেতু সকলের সর্বসম্মতিক্রমেই মন্দিরের সভাপতি উত্তম জোয়াদ্দার অনেক টাকা খরচ করে এই অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন এবং পরিবর্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিকভাবে ও ধর্মীয় অনুসারীদের মাঝে কথার সৃষ্টি ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, ফলে মন্দিরের পরিচালনা পরিষদও এই সিদ্ধান্তসমূহ স্থগিত ঘোষনা করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করছে। পাশাপাশি বিগত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অবকাঠামো উন্নয়নে উত্তম জোয়াদ্দার যে টাকা বিনিয়োগ করেছে, তাতে তিনি বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। ফলে তাকে সকলে মিলে সহযোগিতার ভিত্তিতে তাকে এই ক্ষতির হাত রক্ষা করাও মন্দিরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেরই দায়িত্ব, কারন এ সিদ্ধান্ত তো সকলে মিলেই নেওয়া। একারনে সে যেনো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেটি মাথায় রেখে তাকে সকলে মিলে সহযোগিতার মাধ্যমে তার সংকট কাটিয়ে তুলতে সকলকে আর্থিকভাবে সহায়ক হতে হবে। একসাথে মন্দিরের পরিচালনা কমিটির এই সভা থেকে বিষয়টির সম্মানজনক সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়, এ নিয়ে আর কোনো ধরনের বিভ্রান্তির বা বিতর্কের কোনো অবকাশ থাকলো না বলে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষকে বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে অবহিত করার সিদ্ধান্তও গ্রহন করা হয় সভায়। এছাড়াও বহু বছরের পুরাতন বারোয়ারি মা মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষাসহ ধর্মীয় অনুভুতিকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। মন্দির কমিটির সভাপতি উত্তম জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্দিরের সহ সভাপতি জীবন অধিকারী, উত্তম কুমার সাহা, বিজয় সাহা,কার্তিক কুমার সরকার, সহ সাধারন সম্পাদক প্রদীপ জোয়দ্দার, স্বপন কুমার সরকার,কমল ভট্রাচার্য, কোষাধ্যক্ষ স্বপন কুমার নন্দী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ চক্রবর্তী, সঞ্জয় কুমার বসাক, প্রচার সম্পাদক গনেশ চন্দ্র সরকার, আমোদ প্রমোদ সম্পাদক সুরজিৎ কর্মকার, সহ দপ্তর সম্পাদক বিকাশ সরকার, সদস্য তাপস নন্দী, সুজন নন্দী, অর্ক কৃন্ডু, গনেশ কুমার সাহা, দীপ্ত নাগ, অনুপ কুমার আগরওয়ালা, শুভ সরকার, প্রান্ত সরকার, রুপম মজুমদার, জয় জোয়াদ্দার, গোপাল কর্মকার, অজয় কুমার সাহা, সাগর বসাক, নিরব সরকার, অনিন্দ্য চৌধুরী, স্বপন সরকার, নিখিল সাহা, তাপস নাগ, ফনী দাস, রিপন নন্দী, খগেন্দ্রনাথ বিশ^াস, অমর নন্দী, উত্তম কুমার সরকার, বিজন চক্রবর্তী, চন্দন সরকার, কার্তিক নন্দীসহ মন্দিরের কমিটির সদস্যবৃন্দসহ মন্দিরের সাথে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
