এনএনবি : দেশে মোবাইল ফোন বিক্রি কমেছে। ফলে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় কমেছে স্থানীয়ভাবে তৈরি মোবাইল ফোন সেটের সংখ্যা।
২০১৭ সালের পর গত বছর প্রথম দেশে হ্যান্ডসেটের উৎপাদন কমলো।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুসারে, গত বছর দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দুই কোটি ৩৩ লাখ মোবাইল ফোন সেট তৈরি করেছিল। এটি ২০২২ সালে তৈরি করা তিন কোটি ১৭ লাখ সেটের তুলনায় ২৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন পরিস্থিতির জন্য ডলারের বেশি দাম ও বাড়তি কর দায়ী।
গত দুই বছর ধরে ক্রমবর্ধমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতারা তাদের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিয়েছেন। বাজার মন্দা এই শিল্পের জন্য আরেকটি বড় হুমকি তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো মিলে স্থানীয় মোবাইল সেট উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া, এলসি খোলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে।
তারা আরও বলছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হ্যান্ডসেটের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আগের পর্যায়ে না এলে এই শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে বা প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাধাপ্রাপ্ত হবে।
মন্দা এতটাই প্রভাব ফেলছে যে ২০২৩ সালে স্থানীয়ভাবে তৈরি ফোনের সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় আরও কম। ২০২০ সালে দুই কোটি ৪০ লাখের বেশি হ্যান্ডসেট তৈরি করা হয়েছিল।
করোনা মহামারির কারণে মোবাইল ডিভাইস কম্পোনেন্টের বাজারে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও ২০২১ সালে দুই কোটি ৯৫ লাখ হ্যান্ডসেট তৈরি করা হয়েছিল।
২০২২ সালে স্থানীয়ভাবে তিন কোটি ১৬ লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদিত হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক স্থানীয় চাহিদার ৯৯ শতাংশ।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমপিআইওএবি) তথ্যে জানা যায়, গত বছর মোবাইল ফোন বিক্রি কমেছে ৩৩ শতাংশ।
এমপিআইওএবির সহ-সভাপতি রিজওয়ানুল হকের মতে, বাজারে মন্দাভাব চলমান থাকা এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
তার মতে, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতি হতে সময় লাগবে।
রিজওয়ানুল হক বলেন, ‘এটি সত্য যে অর্থনৈতিক প্রভাব ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাজার মন্দা একটি বড় কারণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ায় অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দূর হয়েছে। আশা করি, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।’
কর কমানো অযৌক্তিক মনে হলে বাজারের মন্দাভাব কাটাতে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি প্রস্তাবিত সমাধানের মধ্যে আছে স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদন খাতকে সুরক্ষিত করতে জাতীয় সরঞ্জাম পরিচয় নিবন্ধন (এনইআইআর) গ্রহণ করা।
২০২১ সালে বিটিআরসি প্রবর্তিত এনইআইআরের লক্ষ্য ছিল গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সিম নম্বরের সঙ্গে তাদের আইএমইআই নম্বর সংযুক্ত করে দেশে বৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ আগেভাগে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও অন্যান্য দেশ তা বাস্তবায়ন কলে ফেলতে পেরেছে।
যেমনÑ পাকিস্তান ও নেপাল অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ এবং স্থানীয় উৎপাদনকারীদের সহায়তা করতে এনইআইআর ব্যবহার করছে।
কিন্তু বাংলাদেশে নকল, অননুমোদিত বা ক্লোন হ্যান্ডসেট ব্লক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো এখনো কার্যকর হয়নি। চোরাইপথে দেশে আনা মোবাইল ফোন ব্লক করার উদ্যোগও সরকার নেয়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত দুই বছর ধরে বিক্রি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট নেওয়ায় তা স্থানীয় নির্মাতাদের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
