এনএনবি : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দারিদ্র্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। তখন সাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের এরকম উন্নয়ন হলে ক্ষতি হবে। কারণ বাংলাদেশ বিদেশ থেকে ভিক্ষা পাবে না। সাহায্য পাবে না। এই ছিল তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এখন বিএনপি-জামায়াত এই নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য সারা বিশ্বে এখন টাকা ছড়াচ্ছে। আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে।’
শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে তার নিজ নির্বাচনি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আকছিনা গ্রামে আয়োজিত নির্বাচনি সভায় এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই ভোট আসে তখন বিএনপি আর জামায়াত বলে আমরা ভোট করবো না। তার কারণ হচ্ছে এই বিএনপি-জামায়াত তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। বাংলাদেশের মানুষ সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক এটা তারা চায় না।’
তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে বিএনপির অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ক্ষমতায় এসেই বলে দেশের গ্যাস বিক্রি করে দেবেন। তখন বলা হল গ্যাস বিক্রি করতে পারবেন না। তখন তিনি বললেন, মাটির তলায় সেটা থেকে লাভ কী? এটা বিক্রি করে দিলে ভালো। অথচ আজকে সেই গ্যাস দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বাংলাদেশকে শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। বিএনপি-জামায়াত যদি গ্যাস বিক্রি করতে পারতো, তাহলে তাদের পকেট ভারী হতো। আর লন্ডন শহরে বাড়ি হতো।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন এক বিদেশি সাংবাদিক চিঠি লিখছে, কারা নির্যাতিত হয়েছিলেন বা হয়েছে এসব বিষয় নিয়ে। যখন জিয়াউর রহমান ঘর থেকে ধরে ধরে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করছিল, তখন এই সাহেবরা কোথায় ছিলেন? এই সাহেবরা তো তখন তাদেরকে চিঠি লেখেননি। আজকে পয়সার বিনিময়ে বিদেশ সাংবাদিকেরা খালি চিঠি লিখছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লুটপাটকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, বাংলাদেশের ভবিষৎ নিয়ে কাউকেই, কোনও রাজনৈতিক দলকে বা অন্য কেউ যদি হয় তাকে ছিনিমিনি করতে দেয়া হবে না।’
আনিসুল হক বলেন, ‘আমি বলতে চাই, যদি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কেউ অপরাধ করে- বাংলাদেশের আইনে তার বিচার অবশ্যই হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের দেশে আর মিসকিন নেই। আমাদের দেশে আর ভিক্ষুক নেই। শেখ হাসিনা আজকে আমাদেরকে মর্যাদা দিয়েছেন। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ গড়বো।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন- কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল কায়ছার ভূঁইয়া জীবন, পৌরসভার মেয়র এম জে হাক্কানী, রুহুল আমিন ভূঁইয়া বকুল, কাজী আজহারুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল, কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ ঋণখেলাপি সেই রতনকে
আদালতে সোপর্দ
এনএনবি : গ্রেফতার হওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় ঋণখেলাপি নূরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জহির উদ্দিন আহমেদ রতনকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা মহানগরের ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি থানা পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. নূরুল বাশার।
সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জহির উদ্দিন আহমেদ রতন কোতোয়ালি থানাধীন রামজয় মহাজন লেনের ওসমান মঞ্জিলের হাজী আব্দুল খালেকের ছেলে।
কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম ওবায়েদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, নূরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ রতনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিএমপির কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ, পাহাড়তলী ও খুলশী থানায় মোট ২৬টি সিআর সাজা ও ৩৫টি সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ সর্বমোট ৬১টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
জহির উদ্দিন আহমেদ রতন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ম্যারিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তাসমিন প্রপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স খালেক অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মারবীন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাসমির সুপার অয়েল লিমিটেড এবং তাসমিন প্রপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
পুলিশ জানায়, রতন গত ২০১১ সাল থেকে অগ্রণী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে আদালত মামলার শুনানি শেষে আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত আসামিকে দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেন। সাজা থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
চট্টগ্রাম অর্থ ঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, নূরজাহান গ্রুপের এমডি জহির আহমেদ রতনের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আছে। তিনি দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপিদের একজন। রতন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্য ব্যবসা করতেন। ২০১১-২০১২ সালে এসব ঋণ নিয়েছিলেন। অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংকসহ আরও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেননি। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা চলমান রয়েছে। অর্থঋণ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।
জনপ্রয়
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
