এনএনবি : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ২৩ দিন আগে চুরি হওয়া এক ছেলে নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে গত ২৪ জানুয়ারি ওই নবজাতক চুরি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়; যাকে এক নিঃসন্তান দম্পতি অর্থের বিনিময়ে কিনেছিল।
ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এরাই মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব; তারা কারাগারে রয়েছেন। তবে যে নারী ওই শিশুকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
সোনাডাঙ্গা থানার এসআই তোফায়েল আহমেদ বলেন, গোপন সংবাদে পুলিশ জানতে পারে, কালিয়া উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি পরিবার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে নবজাতক ছেলে কিনেছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ওই নবজাতকের সঙ্গে নড়াইল থেকে উদ্ধার নবজাতকের বয়সের মিল আছে।
উদ্ধার শিশুটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রাখা হয়েছে। তার পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানান এসআই।
তোফায়েল জানান, শিশুটিকে যারা কিনেছেন বলে দাবি করছেন, তাদেরও থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি বিকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে নবজাতকটি চুরি করে নিয়ে যায় একটি চক্র। এ ঘটনার পর নবজাতকের নানা বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন।
শিশুটির মা রানিমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, নড়াইল থেকে উদ্ধার নবজাতকই তার হারিয়ে যাওয়া ছেলে। জন্মের পর তিনি নিজের ছেলেকে যেমন দেখেছিলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির চেহারার সঙ্গে সেটি মিলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় কোলে পেয়ে আমি খুব খুশি। এক মেয়ে জন্মের প্রায় ১৩ বছর পর ছেলে সন্তানের জন্ম হলো তার।”
নবজাতকের মামা মো. মোস্তফা বলেন, তাদের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায়। তার বোন রানিমা দিনমজুর। ভগ্নিপতিও একই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ঘটনার দিন সকালে প্রসব বেদনা উঠলে রানিমাকে ফকিরহাট থেকে অ্যাম্বুলেন্সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই দিন দুপুরে একটি ছেলে শিশুর জন্ম দেন রানিমা। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ছাড়পত্র দেয়।
এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গাড়ি ভাড়া নিয়ে এক চালকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই চালক গাড়ির চাবি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এর মধ্যে আরও কয়েকজন চালক তার ওপর চড়াও হন।
গাড়িচালকদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। এ সময় নবজাতকটি তার আরেক বোন সোনিয়া বেগমের কোলে ছিল। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে চালকের সঙ্গে থাকা ওই নারী কৌশলে তার নবজাতক ভাগ্নেকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে মোস্তফা জানান।
