এনএনবি : কুষ্টিয়ায় খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে পাঁচ বছরের শিশু শাহিনকে হত্যার দায়ে তার সৎমায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত-১-র বিচারক তাজুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী।
দণ্ডপ্রাপ্ত নাছিমা খাতুন (৩৬) কুমারখালী উপজেলার চরভবানীপুর গ্রামের উস্তার মৃধার মেয়ে এবং খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বাদশার স্ত্রী।
মামলার নথির বরাতে অনুপ কুমার জানান, দ্ইু সন্তান রেখে শাহিনের মায়ের মৃত্যুর পর বাদশা নাছিমাকে বিয়ে করেন। তখন শাহীন ও তার ভাইকে তাদের নানা নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় কেনার জন্য ২০০৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নানা বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসে শাহীন। সেদিন দুপুর আড়াইটার দিকে বাবা বাদশার অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে ভাতের সঙ্গে ‘ফুরাডান’ নামের বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে খাওয়ায় সৎমা নাছিমা। এতে শিশুটি অসুস্থ্ হয়ে পড়লে তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
পরদিন তার বাবা বাদশা বাদি হয়ে স্ত্রী নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খোকসা থানার এসআই হাবিবুর রহমান ২০০৯ সালে ২৭ জানুয়ারি নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা করেন।
অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী আরও জানান, স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নাছিমা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাজা খাটার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
