এনএনবি : এ মাসের শুরুতে বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী ছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। কিন্তু ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা ও ইসরায়েলের পাল্টা সামরিক অভিযানে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। এ যুদ্ধ দীর্ঘ মেয়াদে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এমনকি শীর্ষ তেল উৎপাদক অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে আবার বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।
গত শুক্রবার এক দিনেই উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ উদ্বেগে তেলের দাম দ্রুতই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৫.৯৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৭.৮৭ ডলার। এর পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও ৫.৯৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৯১.০৯ ডলার।
চলতি বছরের জুন মাসের পর তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে উঠে যায়। এরপর তেলের দাম আবার কমতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলারে নেমে যায়। এ মাসের শুরুতেও তেলের দাম কমেছে।
কিন্তু হামাস ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালায়। এরপরের দিনই এক লাফে তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে যায়। পরে গাজায় ইসরায়েলে বোমা বর্ষণ ও গত শুক্রবার স্থল অভিযান শুরু করলে ওই দিনই তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বাড়ে। শনি ও রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন বন্ধ থাকায় সোমবার বাজার পরিস্থিতি আবার বোঝা যাবে। এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক নোটে লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়লে তেলের দাম আরো বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এ সংকটে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, তেলের দাম বাড়লে রাশিয়ার সুবিধা, তারা সেখান থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারবে।
গত বছর ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর ইউরোপে রাশিয়ার তেল বিক্রি অনেকটা কমে যায়। এরপর তারা চীন, ভারতসহ বিভিন্ন বিকল্প বাজারে তেল বিক্রি শুরু করে। এখন তেলের দাম আবার বাড়লে পশ্চিমাদের উদ্বেগ আরো বাড়বে। সূত্র : রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, ট্রেডিং ইকোনমিকস
