এনএনবি : পাঠ্যপুস্তক নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ ছড়ালে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা কোচিং করান এবং নোটবই ছাপান, তাড়াও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন।
পাঠ্যপুস্তক নিয়ে কথা বলার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বিভিন্ন শ্রেণির বই একবার পড়ে নিতেও পরামর্শ দিয়েছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।
শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘অমর একুশে বই মেলা’ প্রাঙ্গনে চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন হাছান।
তিনি বলেন, “আসলে কোনো ইস্যু নাই তো, এ জন্য এখন পাঠ্যপুস্তক নিয়ে লেগেছে। কোথায়, কোন পৃষ্টায় একটু বলুক না, ভুলটা কোথায় আছে? না পড়েই মতামত দেয়।
“সেজন্যই মির্জা ফখরুল ইসলামও সেটা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে রাজনীতির হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা করছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলব, পাঠ্যপুস্তকগুলো আগে পড়ার জন্য।”
সারাদেশে ২০২৩ সালে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করেছে সরকার। তা শিক্ষার্থীদের হাতেও পৌঁছে গেছে বছরের শুরুতে।
নতুন বই হাতে পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন ভুল ও পরিবর্তন নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে নানা পর্যায়ে। এসব নিছকই ভুল, না উদ্দেশ্যমূলক, সে প্রশ্নও উঠেছে।
হাছান মাহমুদের ভাষ্য, যে ‘ভুল’ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে সেগুলো এক দশক আগের ব্যাপার।
“পাঠ্যপুস্তক নিয়ে একটি মহল অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ১০/১১ বছর আগে পাঠ্যপুস্তকে কিছুটা ভুলভ্রান্তি ছিল, সেগুলো তখনই সংশোধন করা হয়েছে। এখন যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, ১০/১১ বছর আগের কথাগুলোই বলছে।“
নতুন শিক্ষাক্রমের জন্য ছাপানো পাঠ্যপুস্তকের ভুল সংশোধনে এবং কেন ভুল হল তা তদন্তে দুটি কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রয়োজনে আলেম ওলামাদের সঙ্গে বসবে, বসে যদি কোন ভুল ত্রুটি চিহ্নিত হয়, তাহলে সেগুলো সংশোধন করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে।“
তিনি বলেন, “পাঠ্যপুস্তক নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পেছনে কোচিং যারা করান এবং নোট বই ছাপায় তারাও যুক্ত হয়েছে। সবাই যুক্ত হয়ে সেটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এটা কখনওই সমিচীন নয় এবং এভাবে যদি গুজব রটানোর মত বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাকিস্তানেও এখন বাংলাদেশের ‘উন্নয়নের’ কথা বলা হচ্ছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন “কদিন আগে সোস্যাল মিডিয়ায় দেখলাম পাকিস্তানের একজন রাজনীতিবিদ বলছেন আমরা রুটির জন্য হাহাকার করছি, বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে মেট্রোরেল চলছে, তাদের ভাষায় বুলেট ট্রেন চলছে। অর্থাৎ তাদের আর আমাদের মধ্যে যে পার্থক্য, সেটা রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। “
“দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের রাজনীতিবিদের মুখে আমাদের উন্নয়নের কথা উঠে আসে না, শুধু অসংগতি কিংবা ছোট কোনো ভুলত্রুটি থাকলে, সেগুলোকে বড় করে দেখানো হয়।”
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ দিন বঙ্গবন্ধুর গ্রন্থ অবলম্বনে তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তা আফরোজা রিমা নাইচের কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতার আলোয় আমার দেখা নয়াচীন’ ও ‘কবিতার মায়ায় কারাভাষ্য’, কথাশিল্পী ইরানী বিশ্বাসের গবেষণা গ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু: একজন স্বামী ও পিতা’ এবং লায়ন মুহা. মীযানুর রহমানের প্রবন্ধ সংকলন ‘সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।
বাংলা একাডেমির মহা পরিচালক কবি মোহাম্মদ নূরুল হুদা, পরিচালক শাহাদাত হোসেন নিপু, গ্রন্থকার ও প্রকাশকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
