ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : বিষাক্ত লিকুইড গ¬ুকোজ, সয়াবিন তেল, লবণ, কস্টিক সোডা ও চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হয় নকল দুধের মূল উপকরণ। এরপর ননি তুলে নেওয়া দুধ ও পানি এসব উপকরণের সাথে মিশিয়ে দুধ তৈরি করে বাজারজাত করা হয়। এভাবে নকল দুধ তৈরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দুগ্ধ ব্যবসায়ী আবুল বাশার। এ সময় তার বাড়ি থেকে চার ড্রাম লিকুইড গ¬ুকোজ, ১৪৭ লিটার সয়াবিল তেল, চিনি, লবণ ও কস্টিক সোডা পাওয়া যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আবুল বাশারের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নকল দুধ তৈরি করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবগত করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। অবশেষে এ নকল দুধ তৈরির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে টনক নড়ে উপজেলা প্রশাসনের। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার চালানো হয় আবুল বাশারের বাড়িতে অভিযান। অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকার নকল দুধ তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। শুক্রবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামে দিনভর এই অভিযান চলে। এ সময় আবুল বাশারের বাড়ির আশেপাশেও খামারিদের বাড়িতে নিষিদ্ধ নকল দুধ তৈরির সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়। প্রতিদিন সহস্রাধিক লিটার নকল দুধ তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করে এসব ব্যবসায়ীরা। এদিকে শুক্রবার সকালে আবুল বাশার তার স্ত্রী, কন্যা ও জামাইকে নিয়ে নকল দুধ তৈরি করছিলেন। এমন সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমানা আক্তার হাজির হন আবুল বাশারের বাড়িতে। কিছুক্ষণ পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান পুলিশ প্রশাসন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে পুলিশ প্রশাসনের পৌঁছানোর আগেই কৌশলে পালিয়ে যান আবুল বাশার। কিন্তু নকল দুধ তৈরিতে তার স্ত্রী, কন্যা বা জামাইকে কঠোর সাজা না দিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। তাই তারা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার জন্য দাবি জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১ লিটার নকল দুধ তৈরিতে ব্যয় হয় ১০ থেকে ১৫ টাকা। স্থানীয় বিভিন্ন দুগ্ধ চিলিং সেন্টারে এসব দুধ সংগ্রহ করে পরে তা পাঠানো হয় ঢাকায়। প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয় ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। বর্তমানে ভাঙ্গুড়ায় অন্তত শতাধিক অবৈধ দুগ্ধ চিলিং সেন্টার রয়েছে। সরকারকে কোন রকমের ট্যাক্স বা আয়কর না দিয়ে বিভিন্ন নামে দুগ্ধ ব্যবসায়ী এসব প্রতিষ্ঠান খুলেছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা।মূলত নকল দুধের ব্যবসা আড়ালে রাখতেই সরকারি নথিপত্রে নাম উঠানো নেই এসব ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের। তবে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সহ প্রশাসনের অনেকেই এসব অবৈধ দুগ্ধ চিলিং সেন্টারে মাঝে মাঝে পরিদর্শনে যান। তবে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেন না কর্মকর্তারা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রোমানা আক্তার রোমিও বলেন, দিনভর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে আবুল বাশারের বাড়িতে। আবুল বাসার পালিয়ে যাওয়ায় বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে ভোক্তা অধিকার আইনে নিয়মিত মামলা দেওয়া যেতে পারে। এ সময় ওই গ্রামে আরো মানুষের বাড়িতে নকল দুধ তৈরি সরঞ্জামাদি পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। বিভিন্ন দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের চিলিং সেন্টার পরিদর্শন করে ব্যবস্থানা না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এতদিন শুধু শুনেছি নকল দুধ তৈরির বিষয়ে। কিন্তু প্রমান তো হাতেনাতে পেতে হবে। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

