পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উপর বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয়ের গ্যালারী-২অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। প্রধান আলোচক থেকে আলোচনা করেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামীম আহসান ও পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার। কবি আবদুল হাই শিকদার তার বক্তব্যে বলেন, নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি। নজরুল নিজেকে নিজেই চিনেছেন। ‘তোমারেই আমি চাহিয়াছি প্রিয় শতরুপে শতবার। জনমে জনমে চলে তাই মোর অনন্ত অভিসার।’ ভাস্কর যেদিকে তাকাই সেদিকে আলোকিত হয়ে যায়। নজরুল যেন তেমনি সূর্য। তিনি যেদিকে তাকিয়েছেন সেদিকেই উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়েছে। কিন্তু নজরুল রবীন্দ্রনাথের মতো এত সৌভাগ্যবান না। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মেধাবীরা চর্চা করলেও নজরুলকে নিয়ে চর্চা করেছেন হাফ এডুকেটেড মানুষেরা। ফলে নজরুলের প্রকৃত অন্তর্জগত মানুষের সামনে আসেনি। নজরুল ছিলেন বহুমাত্রিক। বাংলা গানের জগতে নজরুলের পদচারণা মাত্র ১১ বছর। কিন্তু তিনি এই ১১ বছর সঙ্গীত জীবনে ১৮টি রাগ নির্মাণ করেছেন যা পৃথিবীতে বিরল ইতিহাস। তাঁর মিশ্ররাগের সংখ্যা প্রায় ৪৯টি এবং তিনি প্রায় ২০০ প্রকার ফ্রিকোয়েন্সি তৈরি করেছেন। আবদুল হ্ইা শিকদার আরো বলেন, নজরুল ছিলেন সমসাময়িক কবিদের তুলনায় ভিন্ন। তখনকার কবিরা একধারায় কবিতা লিখলেও নজরুল শিশু সাহিত্য, চলচিত্র, মুর্শিদী, শ্যামা সঙ্গীত, হামদ ও নাত রচনা করেছেন। নিজে চলচিত্রে অভিনয় করেছেন এং পরিচালনা করেছেন। নজরুল পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর সংবাদ সূত্রের রচনা হয়েছিল নবযুগের মাধ্যমে। গান্ধীজী যেখানে স্বাধীনতার নাম নিতে ভয় পেতেন নজরুল সেখানে ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রথম ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা করেিেছলেন। এসকল বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হওয়ার কারণে নজরুলকে স্বাধীনতার কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বর্তমান অন্তবর্তী সরকার ২০২৪ সালে। যা এক অনন্য ইতিহাস। উপাাচর্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ সাহিত্য গবেষণার ক্ষেত্রে উদাহরণ তৈরি করেছে। পর্যাপ্ত রিসোর্স না থাকলেও অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের তুলনায় বিভাগটি সমৃদ্ধ। শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামীম আহসান বলে, নজরুল আমাদের অনুপ্রেরণা। ঈদুল ফিতর নিয়ে নজরুলের রচনা অনন্তকালের। নজরুলকে আমাদের ধারণ করতে হবে, লালন করতে। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের শিক্ষক ও নজরুল গবেষক ড. জিন্নাত রেহানা। এসময় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপিস্থত ছিলেন। (জনসংযোগ দপ্তর,পাবিপ্রবি)
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

