স্টাফ রিপোর্টার : শেখ মুজিবুর রহমানের ছোটো ছেলে শেখ রাসেলের নামে নিজের লেখা বই উৎসর্গকারী পাবনা সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলাম এখন নিজের অফিসসহ অফিস পাড়াগুলোতে এখন বিএনপির লোক হিসেবে বেশ সমাদৃত। বিএনপির বেশকিছু কর্মীদের কাছেও তিনি এখন প্রিয় জহুরুল ভাই। অফিসের নিয়ম কানুন না মেনে চলছেন নিজের ইচ্ছেমতো। ঠিকমতো ভিজিট করেন না তার দায়িত্বে থাকা ক্লাষ্টারের স্কুলগুলো। তিনি চলেনও ইচ্ছেমতো। এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকের ও এলাকার বিদ্যোৎসাহী মানুষদের। তার নিজের ক্লাষ্টার হলো দোগাছী ইউনিয়ন আর এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন বিজয়রামপুরের ক্লাষ্টারের। নিজে সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন না করলেও শিক্ষকদের সাথে কটাক্ষ আচরণ করেন বলে সংশ্লিস্ট ক্লাষ্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ। ৫ আগষ্টের পরবর্তি প্রেক্ষাপটে তার আচরণ হয়ে ওঠে আরো বেশি বিরক্তিকর তার সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের নেতৃত্বস্থানীয় শিক্ষকদের নিয়ে তিনি স্কুলগুলো ভিজিট করেন যাতে করে অস্বস্তি বোধ করেন শিক্ষকেরা। শুধু তাই নয়, নেতৃস্থানয়ি শিক্ষকদের নিয়ে গিয়ে তিনি ভিজিটে যাওয়া স্কুলের অফিস রুমে গিয়ে আড্ডা দেন। এতে করে বিরক্তবোধ করেন ঐ স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা যেটি তাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে। ইতোমধ্যেই তার ক্লাষ্টারের বেশ কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহারুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহারুল ইসলাম গত ২০ আগষ্ট খয়েরবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে নানা ধরনের অনিয়মে ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ স্কুলের সমস্ত নথিপত্র জব্দ করে নিয়ে আসেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানসহ স্থানীয় কয়েকজন বিদ্যোৎসাহী ব্যাক্তিত্ব। ঐ স্কুলটির মাঠে খড়, পাট শুকানো হয়, স্কুল মাঠটিতে গরু ছাগল চড়ানো হয়। স্কুলটির শিক্ষকেরা ঠিকমতো যাননা প্রতিষ্ঠানে। আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ থেকে ৪ মাসের অফিশিয়াল নিয়মে শিক্ষার্থীর হাজিরাই নেই। মানে হলো গেলো প্রায় ৪ মাসে স্কুলে যেনো কোনো শিক্ষার্থীই যায়নি। স্কুলটিতে বিভিন্ন সময়ে যে বরাদ্দ আসে তা সেখানে সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি। পুরো স্কুলটি অপরিচ্ছন্ন, ওয়াশরুম ও পরিচ্ছন্নতার জন্য যে সরকারি আলাদা বাজেট তার কোনো ব্যবহার হয়েছে কিনা তা স্কুলটি সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করলেই তা সহজেই অনুমেয় হয়। যে কোনো বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হয়। শুধু তাই নয় সহকারী শিক্ষা অফিসারের প্রত্যয়ণ ছাড়া এ টাকা উত্তোলন করার বিধি নেই। সহকারী শিক্ষা অফিসার খয়েরবাগান স্কুলসহ কোন কোন স্কুলে কোন খাতের কোন টাকা কিভাবে ব্যয় করলেন তা যাচাই হওয়া দরকার বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। কারন সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার হলে খয়েরবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন দুর্দশা হবার কথা নয়। জানা গেছে খয়েরবাগান স্কুলে বর্তমানে ৫৫ জন ছাত্র ছাত্রী থাকলেও খাতাপত্রে দেখানো রয়েছে ১১০ জন থেকে ১১৫ জন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহারুল ইসলাম বলেন, আমি তো প্রায়ই স্কুলগুলো ভিজিট করি এটা আমার দায়িত্ব। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভালো আছে কিনা, স্কুলের পরিবেশ পারিপাশির্^কতাসহ তাদের ঠিকমতো শিক্ষকেরা যত্ন করছে কিনা,এটা দেখা সকলেরই দায়িত্ব। খয়েরবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম, খুবই দুরাবস্থা, এখানকার ক্লাটারের শিক্ষা অফিসার এগুলো দেখেন কিনা জানিনা। তিনি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলে হয়তো এতো অনিয়ম হতো না, আমিও ওখানকার নথিপত্র হাজিরা খাতা এসব জব্দ করে নিয়ে আসতাম না। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করবো, তারা যেনো সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তিনি আরো বলেন, শিশুদের জন্য স্কুলগুলোর উপযোগী পরিবেশ রক্ষাসহ প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে জেলা প্রশাসন ও পাবনা সদর উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এদিকে তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া গেছে আরো কিছু তথ্য, পাবনা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলাম ছোটোদের ছোটগল্প নামের একটি বই প্রকাশ করেন মহীয়সী নামের স্থানীয় একটি প্রকাশনী সংস্থা থেকে। দৃষ্টিনন্দন চাররঙা প্রচ্ছদে প্রকাশিত বইটির উৎসর্গে লেখা রয়েছে- উৎসর্গ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অকাল প্রয়াত শিশুপুত্র শেখ রাসেলকে। বইটিতে ২০ টি গল্প রয়েছে। ২০২১ সালের বইমেলাতে বইটি প্রকাশিত হয়। বইটির প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেন আলমগীর জুয়েল। তিনি এই বইটি ব্যবহার করে সামাজিকভাবে নানা রকমের আওয়ামী সুবিধা গ্রহন করেন। প্রিয়ভাজন হন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছে. আওয়ামীলীগের নেতাদেরকে এই বই উপহার দিয়ে বাহবা কুড়ান তিনি। পরবর্তিতে ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার সরকারের বিদায় ও ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পরদিনই তিনি শেখ রাসেলের নামে উৎসর্গ করা নিজের লেখা ৪ শ কপি বই নিজেই পুড়িয়ে ফেলেন যাতে সেটি আর দৃশ্যমান না হয় কারো চোখে। এখন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের কাছে তিনি খুব কাছের স্বজন। ঈশ^রদীতে সহকারী শিক্ষা অফিসার থাকাকালে তার বিরুদ্ধে সেখানকার শিক্ষকদের রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। ঈশ^রদীতে শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সে সময়ে আওয়ামী ঘরানার লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে বেঁচে যান নানান অনিয়ম অভিযোগ থেকে। ঈশ^রদীতে চাকরিকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে স্কুলগুলোর জন্য বরাদ্দ আসা টাকা নয়ছয় করার অভিযোগসহ নানান স্লিপের টাকার গড়মিলের অভিযোগ ছিলো সেখানকার শিক্ষকদের মুখেমুখে। পাবনার আটঘরিয়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের ছেলে জহুরুল আওয়ামীলীগের সময়ে লক্ষিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ আনোয়ারের পক্ষে নির্বাচনে ব্যাপকভাবে প্রচারকাজে অংশ নেন তিনি। যেটি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অবহিত রয়েছেন। কয়েকজন শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান উনি তো দেখছি বর্ণচোরা মানুষ। শেখ রাসেলের নামে নিজের লেখা বই উৎসর্গ করেছেন, এলাকায় বিগতদিনে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করেছেন, আর এখন তিনি অফিসে আচার আচরণে বিএনপির লোক বলে পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে মিশে থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন। এদিকে তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা গেছে যে, তিনি মহীয়সী প্রকাশনী থেকে একটি বই বের করেন, পরবর্তিতে সেই প্রকাশনীর অনুমতি ব্যাতিরেকে ঐ একই বই নিজে অন্য একটি প্রেস থেকে ৫ শ কপি প্রিন্ট করে পাইরেসি করেছেন, যা অত্যন্ত গর্হিত ও আইনসিদ্ধ নয়। আর অন্য আরেকটি বইয়ের ছাপা বাবদ পনেরো হাজার টাকা উনি মেরে দিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা তার স্ত্রী এডওয়ার্ড কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষিকার সাথে যোগাযোগ করলে তার স্ত্রী তাদেরকে জানিয়েছেন যে, এসব আমার বিষয় নয়, তার এধরনের কাজ আমার খুবই অপছন্দের। আপনারা তার সাথেই কথা বলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় চার বছর হলেও ঐ পনেরো হাজার টাকা প্রকাশনী বারবার ঘুরেও আজ অবধি ফেরত পায়নি। শুধু এই নয় তাকে একজন নোংরা মানুষ আখ্যায়িত করে তারা পাইরেসি মামলাও করেনি তার বিরুদ্ধে। মহয়িসী প্রকাশনীর সাথে এ ঘটনা দুটোর কারনে তিনি পাবনার কবি সাহিত্যিকদের কাছে একজন ঠকবাজ ও ধুর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এদিকে এসব বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলাম বলেন, ইউএনও স্যার খয়েরবাগান স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাসহ বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন এটা সত্যি। তবে একারনে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে ও তিনদিনের ভেতরে কারন দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের ভিজিটর হিসেবে এর দায় কি আপনার নয়, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। এদিকে বইটির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কিছু জানিনা এসব প্রকাশনী করেছে, আমি তো ছাত্রদল করতাম বিশ^বিদ্যালয়ে। অপরদিকে মহীয়সী প্রকাশের প্রকাশক রেহানা সুলতানা শিল্পী বলেন, লেখকরা পান্ডুলিপি দেন, তারা যা দেন সেটিই ছাপা হয়। এখানে প্রকাশনী ছেয়ে দেয় মাত্র, সবই তো তার লেখা। উনি তো বাটপারি করেছেন এবং উল্টাপাল্টা বলছেন। সর্বোপরি শেখ রাসেলের নামে বই উৎসর্গকারী সহকারী শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলাম বর্তমানে বিএনপি সেজে থাকলেও তার অন্তরে যে আওয়ামী প্রীতি ও মুজিব পরিবারের প্রতি তার মিষ্টি অনুভব সেটিই প্রমানিত হয়েছে বিগত সময়ে। হয়তো একারনেই ঠিকমতো ক্লাষ্টার ভিজিট না করে, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে উদাসীনভাবে নিজের ইচ্ছেমতো চলে তিনি পাবনা সদরের প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন কিনা, সেটির প্রতি নজরদারী ও খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিদগ্ধজনেরা।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

