স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বানেশ^রে বিআরটিসি বাস শ্রমিকদের দ্বারা মাই লাইন বাস শ্রমিকদের মারধরসহ পাবনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিবাদে ডাকা পাবনা থেকে সকল রুটে পরিবহণ ধর্মঘট প্রায় ১০ ঘন্টা পর প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরের পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের এক যৌথ সভায় জেলা প্রশাসকের আশ^াসের প্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করার ঘোষনা দেন পাবনার পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এর আগে ভোর ৫ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলার সব রুটে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। পাবনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ফিরোজ খান ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ভোর থেকেই সকল পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছিল। সন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে পাবনার রাজপথে সকল শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এরপর জেলা প্রশাসক স্যার আমাদের সবাইকে ডেকেছিলেন। তিনি এসব সমাধান করে দেওয়ার আশ^াসে আমরা সকল ধরনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি। তবে আমাদের দাবি প্রত্যাশা পূরণ না হলে ফের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে। পাবনার পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের ঐতিহ্য রয়েছে, ইউনিয়ন অফিসে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রবেশ করে ও সেখানে কয়েকজনকে আহত করার মাধ্যমে পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে অপমান অপদস্ত করা হয়েছে। এর ফয়সালা হতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাবনা বিআরটিসি বাস সরকারি সঠিক নিয়মে চালায় না। তারা লিজ দিয়ে চালায়। সড়কে ইচ্ছেমত চলাচল করে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। আমরা বাস শ্রমিকেরা কিন্তু সঠিক নিয়মে রাস্তায় চলি। আমাদের সঠিক নিয়ম যদি তাদের ভালো না লাগে যদি মাঝেমধ্যেই আমাদের শ্রমিকদের সাথে অসদাচরণ করে। এরপরও যদি এমন ব্যবহার বা শ্রমিকদের মারধর করা হয় তাহলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যা হয় তাই করা হবে। জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে দাশুড়িয়া মোড় থেকে মাই লাইন পরিবহনে যাত্রী তোলা নিয়ে বিআরটিসি বাসের শ্রমিক ও বাসের একজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর নাটোর গিয়েও আবারও কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়াও রাজশাহীর বানেশ^রে যাত্রী তোলা নিয়ে বিআরটিসি ও মাই লাইন বাসের শ্রমিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়৷ এক পর্যায়ে মাই লাইন বাস শ্রমিকদের মারধর করে বিআরটিসি বাস শ্রমিকরা এ ঘটনায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নকে জানালে বিষয়টি রাতে মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলেন মোটর শ্রমিকের নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় রাত ৮ টার দিকে মিমাংসা করতে বসে আছেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন। এমন সময় বিআরটিসি বাসের শ্রমিকরা লাঠিসোটা ও জিআই পাইপ দিয়ে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন পাবনা কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়ে শ্রমিকদের মারধর করে চলে যায়। এ সময় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এরপর বাস ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবহন বন্ধ রাখা হয়। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের পাবনার শ্রমিকরা বিআরটিসি শ্রমিকদের দ্বারা মারধরের শিকার হবে। আবার শাহজাদপুর বাস শ্রমিকদের হাতে মার খাবে এটা এখন নিত্যদিনের রুটিন হয়ে গেছে। পরিবহন সেক্টরে সরকারি নজরদারি দরকার। এমন রেসারেসী চলতে থাকলে একটি দুটি বাস মুখোমুখি সংঘর্ষ করে প্রতিশোধ নিবে হয়তো। সেদিন বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হলে এর দায় কে নিবে। পাবনার কোনো পরিবহন শ্রমিকের গায়ে হাত তোলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, সকল শ্রমিক সংগঠনকে ডেকেছিলাম। কার্যকরী আলোচনা ও সমাধান হয়েছে। বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আশা করি জেলা প্রশাসন সব সময় শ্রমিকদের পাশে বিগত দিনের মতো পাশে থাকবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

