মাসুদ রানা : এখন শিম গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। ফুল থেকে শিমের ফলনও শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে উঠেছে আগাম জাতের অটো শিম। তবে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আগাম উঠা এ শিম। তবে উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে আগাম জাতের শিমের আবাদ হয়েছে ৭০০ হেক্টর। লক্ষ্য মাত্রা ধরা নির্ধারন করা হয়েছে ১৫৭০ হেক্টর। গত বছর আবাদ হয়েছে ১৫৭০ হেক্টর জমিতে। বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা খেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত। ভাল দাম পাওয়ায় শিম চাষিরা খুশি হলেও নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা চড়া দামে অখুশি প্রকাশ করেছে। এসময় শিম উঠলে ভাল দাম পাওয়া যায়। তাই আটঘরিয়ায় এবছর চাষ বেড়েছে আগাম জাতের শিম। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অটো শিম’। এ জাতের শিম চাষে এখানকার কৃষকরা প্রতিবারই লাভবান হন। এরই মধ্যে গাছে শিম ধরা শুরু হয়ে গেছে। শিম শীতকালীন সবজি হলেও এ এলাকায় ৮-১০ বছর ধরে আগাম জাতের শিমের আবাদ হচ্ছে। প্রতি বছরই চাষিদের লাভ হয়। আগাম শিমের বাজারে চাহিদা বেশি থাকে দামও ভালো পাওয়া যায়। তবে এ শিম উৎপাদনে চাষিদের খুবই পরিশ্রম করতে হয়। এ শিমের ক্ষেতে পোকার আক্রমণ বেশি হয়। এছাড়া অতি বৃষ্টি ও অতি খরার কারণে শিমের ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকার পরই চাষিরা বাজারে উঠেছে নতুন এসব শিম। সরেজমিনে দেখা যায়, অটো জাতের শিম গাছ এরই মধ্যে মাচায় উঠে ফুলে ফুলে ভরে গেছে। তাই গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা। এর মধ্যে আগাম শিম বাজারে তুলেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝিতে আগাম শিম চাষ শুরু করেন চাষিরা। ভাদ্রের প্রথম দিকে বাজারে তোলা হয়। জানা যায়, এক যুগ ধরে এখানে অটো শিমের আবাদ চলছে। ফলন ভালো ও কৃষকরা লাভবান হওয়ায় প্রতিবছরই আবাদ বাড়ছে। এ শিম চাষে প্রতিবছরই সফলতা পান এখানকার চাষিরা। তবে শিম চাষকে কেন্দ্র করে ঈশ^রদীর মুলাডুলিতে গড়ে উঠেছে বিশাল বাজারও। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আটঘরিয়া পৌরসভার হাজিপাড়া গ্রামের শিম চাষি দুলাল মৃর্ধা বলেন, আমি দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে আগাম অটো জাতের শিম আবাদ করেছি। পর্যাপ্ত পরিমানে গাছে ফুল এসেছে। শিমও প্রচুর ধরেছে। প্রতি সাপ্তাহে ৪-১০ কেজি, আবার কোন সাপ্তাহে ১৫-২০ কেজি করে খেত থেকে এই অটো শিম তুলি। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। বর্তমানে পাইকারি ১৮০-২২০ টাকা দরে কেজি শিম বিক্রি করছি। তিনি আরও বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে অটো শিমের আবাদ করতে খরচ হয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। অন্য ফসলের চেয়ে শিমের আবাদে খরচ বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হয়। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমির শিম ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। বাজারে প্রথম যে শিমগুলো উঠে সেগুলোর দাম বেশি থাকে। প্রথম অবস্থায় ২০০ টাকা কেজি বা তার চেয়ে বেশি থাকে বিক্রি করা যায়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল হক বলেন, অটো-রূপবান-ঘৃত কাঞ্চন-রূপসী, চকলেট ও কেরেলা-১৫০ নামে আগাম জাতের শিম এখানে চাষাবাদ বেশি হয়। অটো জাতের শিম জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে আবাদ শুরু হয়েছে। বর্তমানে যে সকল কৃষক আগাম জাতের শিম আবাদ করেছে তারা বেশি লাভবান হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোতমাইন্না বলেন, আটঘরিয়ায় উপজেলা শিম সাগর নামে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক সুনাম রয়েছে। সার ও কীটনাশক কম ব্যবহার করে কীভাবে আগাম শিম উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে আমরা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নানা পরামর্শ প্রদান করছি।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

