ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : ভাঙ্গুড়ায় বড়াল নদ দখল করে ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে। পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের পৌর ভূমি অফিসের সামনে আরসিসি ভিত দিয়ে এই ভবন নির্মাণ কাজ করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা এই ভবন নির্মাণ বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের মাঝখান দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বড়াল নদ প্রবাহিত হয়েছে। শহরের শতাধিক ব্যবসায়ী এই নদের দুই পাড় দখল করে ভবন নির্মাণ করেছেন। অধিকাংশ এসব ভবন বাণিজ্যিক বিপণীবিতান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব ভবন নির্মাণ করে কোটি টাকায় বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ আছে। এসব ভবন নির্মাণের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা প্রথমে এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। পরে উৎকোচের বিনিময়ে তাদেরকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে নির্মাণ কাজ শেষ করেন দখলদাররা। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের কুঠিপাড়া মহল্লা থেকে কলেজ পাড়া মহল্লা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বড়াল নদের দুই পাড় দখল করে এসব অবৈধ ভবন নির্মাণ হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক ভবন রয়েছে তিন থেকে চারতালা। এছাড়া একতলা ভবনগুলোর অধিকাংশ ভবন আরসিসি ভিত দিয়ে নির্মাণ করা। দখলদার সাখাওয়াত হোসেন গত এক মাস ধরে নদ দখল করে এই ভবন নির্মাণ কাজ করছেন। তিনিও আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। সাখাওয়াত হোসেন নির্মানাধীন এই ভবনের সামনের একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, প্রশাসনের অবহেলায় দিন দিন নদ দখল হয়ে যাচ্ছে। নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ ভবন। সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে বড়াল নদ। ভাঙ্গুড়া সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান সিরাজুল ইসলাম বলেন, বড়াল নদকে কেন্দ্র করে পৌরশহরের ভাঙ্গুড়া ও শরৎনগর বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একসময় এই দুই বাজারের ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে এই নদ নৌ-পথ হিসেবে ব্যবহার হতো। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে নদে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে না। এই সুযোগে নদের দুইপাড় দখল করে নিয়েছেন অবৈধ দখলদাররা। এভাবে নদ দখল করলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তাই এটা প্রতিরোধ করা উচিত। নদ দখলের বিষয়ে কথা বলতে ভবনের স্থানে শ্রমিক ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা ভবন মালিক সাখাওয়াতের নাম্বার দিতেও অপারগত প্রকাশ করেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমীয়া আক্তার রোজী বলেন, বিষয়টি জেনে দখলদার সাখাওয়াত হোসেনকে ভবন নির্মাণ বন্ধে নোটিশ করা হয়েছিল। এরপরেও নির্মাণ কাজ চলমান থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

