বেড়া প্রতিনিধি : জেলার বেড়া,সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলা উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা হিসাবে সুপরিচিত। এ এলাকার পেঁয়াজ এখানকার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর আগাম জাতের (মুড়িকাটা) পেঁয়াজ আবাদে কৃষকরা লাভের মুখ দেখা তো দুরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠানোই দায় হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যের নিম্নমুখি হওয়ার কারণে লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। এ কারণে বেশিরভাগ কৃষকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ বছর পেঁয়াজের আবাদে প্রত্যাশিত মুনাফা তো দূরের কথা লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। বেড়া উপজেলার কৃষকরা মনে করেন সরকারের যথাযথ পদক্ষেপে ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুমে যাতে পেঁয়াজ আবদানি বন্ধ থাকলে এধরনের সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন। অন্যথায় কৃষি খাতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যয়, বাজারমূল্যের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যই এই লোকসানের প্রধান কারণ। এসব কারণে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন কৃষকরা। কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বেড়া উপজেলার অধিকাংশ কৃষকরা জানিয়েছেন, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক এবং শ্রমিক খরচ মিলে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে যা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক দামেও পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন না তারা। করমজা চতুরহাটে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা সাঁথিয়া উপজেলার বায়া এলাকার কৃষক শামছুর রহমান বলেন, এবার মুড়িকাটা পেঁয়াজ বীজ প্রতি মণ ৮,৫০০ টাকা দরে ৬মণ পেয়াজ বীজ কিনে আমার এক বিঘা জমিতে লাগিয়েছিলাম। তাতে শুধুমাত্র জীব বাবদ ৫১,০০০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তার সঙ্গে সার, কীটনাশক, সেচ কামলাসহ বিঘায় খরচ দাড়িয়েছে ৯০ থেকে ১ লক্ষ টাকা। আমার এক বিঘা জমিতে সর্বমোট ৪৩ মণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। বাজারে প্রতিমণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা দরে। তিনি আপসোস করে বলেন, ব্যাংক থেকে মোট ১ লক্ষ টাকা ঋণ করে আমার এক বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। ভেবে ছিলাম পেঁয়াজ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো এখন সেটাও হলো না। কালি বাজার এলাকার কৃষক মমিন উদ্দিন বলেন, জমিতে বিঘাপ্রতি পেঁয়াজের ফলন হয়েছে ৪৫ মণ। বর্তমান বাজারে ৭০০ বা ৮০০শ টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তাতে প্রতি বিঘা জমির পেঁয়াজ বিক্রি করে তিনি ৩১ হাজার থেকে ৩৬ হাজার টাকা পাচ্ছেন। অর্থাৎ বিঘায় তাঁর গড়ে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। সরেজমিনে বেড়া পৌর এলাকার করমজা চতুরহাটের বেশ কয়েটি আড়ৎ ঘুরে দেখা যায় প্রতিমণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রকার ভেদে পাইকারি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চতুরহাটের আড়ৎদার মোঃ আলম মোল্লা বলেন, আজকের হাটে প্রচুর পরিমাণ মুড়িকাটা পেঁয়াজের আমদানি হয়েছে। ব্যাপারিরা সেগুলো কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির উদ্যোশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন। এবছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ায় আমদানি বেড়ায় হাটে দাম অনেকটাই কম। বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবীর বলেন, এবছর বেড়া উপজেলায় ১৯৮৮ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এ বছর ফলন অত্যন্ত ভালো তাই বাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম অনেকটা কমে গেছে। তবে সরকার যদি যাথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুমে ভারত বা অন্য কোন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে, তবে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করি। এছাড়া কৃষকেরা যদি মূলকাটা পেঁয়াজের সাথে সাথি ফসল হিসাবে অন্যান্য ধরনের ফসল চাষ করে তবে কৃষকরা লাভবান হবে বলে মনে করি।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

