স্টাফ রিপোর্টার : ইছামতি নদী পারের অবৈধ বসতি উচ্ছেদ প্রচার মাইক বের করাকে কেন্দ্র করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নদী পারের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রচার মাইক আটকে দেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় নদী পারের বসতির পরিবারের সদস্য নারী পুরুষ শহরের বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিষয়টি দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবগত হলে দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে মোবাইলে ভিডিও ও উচ্ছেদ প্রচার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এসময় সকলকে শান্ত থেকে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ^াস দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সেনা সদস্যরা। এর পরে বিক্ষোভকারীরা পুনরায় মিছিল নিয়ে শহরের প্রর্দক্ষিণ করে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে পথ সভা করেন। পথসভায় বক্তব্য দেন ইছামতি নদী পারের বৈধ স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিন্টু, সদস্য শফিউর রেজা নান্না, আল মাসুদ রিজভী, আল মমিন, আবুল হাশেম, বাবুল হোসেন প্রমুখ। এসময় আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাবনা পৌর এলাকার মধ্যে অবস্থিত ইছামতি নদী পারের বৈধ বসতিরা তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ের লক্ষে আন্দোলন করে আসছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে এপর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক বসত বাড়ি উচ্ছেদ করেছেন প্রশাসন। আমরা আইনের প্রতি আস্থা রেখে আদালতের দারস্থ হয়েছি। এখনো নদী পারের বৈধ বসতির দাবির বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান বিচারাধীন। এরই মধ্যে পৌর এলাকার বাহির থেকে নদী খনন কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কাছে গিয়েছি। কিন্তু নতুন করে এই উচ্ছেদ অভিযানের প্রচার মাইকিং করা স¤পর্কে অবগত নয়। তবে কেন আইন অমান্য করে আমাদের উচ্ছেদ করা হবে। উচ্ছেদ অভিযান আতঙ্গে এরই মধ্যে ভুক্তভোগী অসহায় বেশ কিছু পারিবারের সদস্যরা চিন্তায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা জেলা প্রশাসন সহ রাষ্ট্রের প্রধান যারা রয়েছেন তাদের কাছে আবেদন করছি। নদী পারের বৈধ জমির মালিক ও বসতিদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে ইছামতি নদী খনন করুন। আমরা নদী খননের বিরুদ্ধে নয় তবে সেটি সঠিক নিয়মে হতে হবে। এই দেশের নাগরিক হিসাবে সরকারের দেয়া চারটি বৈধ জমির মালিক হিসাবে আমরা আমাদের ন্যায় সঙ্গ বিচার প্রত্যাশা করছি। নদী পারের এই বৈধ বসতিদের অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন আন্দোলনকারীরা। প্রসঙ্গত, ১৭৫৩ কোটি টাকা ব্যায়ে পাবনার ইছামতি নদী খনন শুরু হয়েছে। প্রায় ১৯ কিঃমিঃ দৈর্ঘের এই নদীর পৌর এলাকার মধ্য দিয়ে রয়েছে প্রায় ৫ কিঃ মিঃ। পৌর এলাকার সিঙ্গা বাইবাস এলাকা থেকে দক্ষিন রামচন্দ্রপুরের এই ৫ কিঃমিঃ নদীর দুই পারে প্রায় ১৩ হাজার বৈধ বসতি রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জেলা প্রশাসন তালিকা অনুসারে ২৮৩ জনের তালিকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ৭টি মৌজায় ৯০টি মামলা পাবনা আদালতে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিত সংস্কার ও খনন কাজ সঠিক ও সুন্দর ভাবে করতে বৈধ বসতীতের ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের সুযোগ করে দিবেন সরকার ও প্রশাসন এমনটাই দাবি তাদের। তাই সমস্যার সমাধান না করে প্রচার মাইক ব্যবহার করে উচ্ছেদ আতঙ্ক সৃষ্টি না করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন তারা।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

