ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : আগাছায় চারপাশ পরিবেষ্টিত হয়ে ছিল। পলেস্তারা ঝড়ে পড়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছিল উপজেলা পরিষদে অবস্থিত উপজেলায় সর্বপ্রথম সরকারি উদ্যোগে নির্মিত শহীদ মিনার। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরোধিতার কারণে গত ১৬ বছর ধরে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদে নির্মিত শহীদ মিনারের এই বেহাল দশা ছিল। আওয়ামী সরকারের পতনের পরে এবছর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবহেলিত এই শহীদ মিনার সংস্কার করে রঙিন রূপে রূপদান করা হয়েছে। এ বছর উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এই শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। জানা যায়, ১৯৮২ সালে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদে রূপান্তর হয়। উপজেলা পরিষদের নির্মাণের পরে পরিষদ চত্বরে সরকারি উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এই শহীদ মিনারে প্রতিবছর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে নেতাদের বিরোধিতার কারণে অবহেলায় বিবর্ণ হয়ে যায় এই শহীদ মিনার। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে বড়াল নদী প্রবাহিত। নদীর এক পাড়ে রয়েছে ভাঙ্গুড়া বাজার এবং অপর পাড়ে রয়েছে শরৎনগর বাজার। পূর্ব থেকেই রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে অনেক বিষয়ে দুই পাড়ের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের মতপার্থক্য রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই ভাঙ্গুড়া বাজার পাড়ের বাসিন্দা সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের নির্দেশে সরকারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ডের পাশে রেলের জমিতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। উপজেলা পরিষদে নির্মিত শহীদ মিনারটি অবহেলিত ও পরিত্যক্ত করতেই বাসস্ট্যান্ডে এই শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয় বলে অভিমত এলাকার মানুষের। এদিকে অবহেলিত এই শহীদ মিনারে এবছর ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পনের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। শহীদ মিনারের চারপাশ পরিষ্কার করে শহীদ মিনারের সংস্কার কাজ করা হয়। এছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমীয়া আক্তার রোজী অফিস ছুটির পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে রং তুলির আচড়ে রঙিন করে তোলেন শহীদ মিনার। এতে ১৬ বছর পর নিষ্প্রাণ শহীদ মিনার যেন প্রাণ ফিরে পায়। ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহবুব উল আলম বলেন, উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনারটি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় ছিল। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবছর শহীদ মিনারটি পূর্বের চেয়েও বর্ণিল রূপে সেজে উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন উদ্যোগকে উপজেলার মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

