স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৯৪ সালে ঈশ^রদীতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ ৩ বিএনপি নেতা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার দুপুরে পাবনা জেলা কারাগার থেকে তারা মুক্তি পান। এ সময় জেল গেটে নেতাকর্মীদের পদচারণায় ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। মুক্তিপ্রাপ্ত অন্য দুইজন হলেন ঈশ^রদী পৌর বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম অটল ও ঈশ^রদীর যুবদল নেতা মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সেখান থেকে তারা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছালে তিনজনকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কারামুক্ত ঈশ^রদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। পরে ঈশ^রদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জাকারিয়া পিন্টুসহ বিএনপির নেতাদের নিয়ে শোভাযাত্রা বের করে। জেলা বিএনপি’র কার্যালয় থেকে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাছপাড়া, টেবুনিয়া, দাশুরিয়া হয়ে তাদের নিজ এলাকা ঈশ^রদী গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কারামুক্ত নেতাদের বিশাল গণসংবর্ধণার আয়োজন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে জাকারিয়া পিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি ছিল সম্পূর্ন ভুয়া মামলা। তৎকালীন আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং এর কারণে সেই গন্ডগোল হয়েছিল। সেখানে আমরা স্যাবোটাজ হয়ে গেছি যেভাবেই হোক। পরে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে বিএনপির ৫২ জন নেতাকর্মীকে জড়িয়ে মামলাটি করেছিল। পরে সেই মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়েছিল। যাতে ঈশ^রদীতে বিএনপি মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আর কারামুক্তির এই আনন্দ অনুভূতি তিনি তারেক রহমানকে উৎসর্গ করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে ট্রেনে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ঈশ^রদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেনবহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ওই সময় ট্রেনে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার অভিযোগে ঈশ্বরদী জিআরপি (রেলওয়ে পুলিশ) থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও ঈশ^রদী পৌর বিএনপির নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরের বছর পুলিশ কোনো স্বাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু আদালত সে অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিক তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটির পুনঃতদন্ত হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল পুলিশ ঈশ^রদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীসহ ৫২ জনের নামে আদালতে আবার অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৯ সালের ৩ জুলাই পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী এই মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের ৯ জনকে মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ স্থানীয় বিএনপির আরও ৯ নেতাসহ ৪৭ জনের সকলকে খালাসের আদেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, খালাসপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে ৩০ জন হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্তদের মধ্যে পাবনা কারাগারে ছিলেন জাকারিয়া পিন্টুসহ তিনজন। তারা গতকাল সোমবার মুক্তি পান। এছাড়া রাজশাহী ও ঢাকার ে কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকা বাকি নেতারা আজ মঙ্গলবার মুক্তি পাবেন।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
