মাসুদ রানা : গ্রামের ঘরে ঘরে খেজুর রসের পিঠা, পায়েস, গুড়ের মুড়ি-মুড়কি ও নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়েছে। তাই আটঘরিয়া উপজেলায় খেজুর রস থেকে সুস্বাদু গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। শীতের শুরুতেই বেশ কিছুদিন ধরেই শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। প্রতি বছরের মতোই এ বছরও রস সংগ্রহের জন্য খেজুরগাছ প্রস্তুতের কাজ চলছে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের গাছিরা এখন ব্যস্ত রস সংগ্রহে। গাছিরা জানান, ভোরের সূর্য ওঠার আগে গাছিরা রস ভর্তি মাটির ভাঁড় গাছ থেকে নামান। পরে মাটির হাঁড়িতে কিংবা টিনের বড় তাওয়ায় জ¦াল দিয়ে গুড়-পাটালি ও লালি তৈরি করেন। নতুন খেজুর রসের গুড় তৈরির পর তা চলে যাচ্ছে বাজারে। রস সংগ্রহ, গুড় তৈরি ও বাজারে বিক্রি করতে এখন ব্যস্ত তারা। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গাওপাড়া গ্রামের আফাজ উদ্দিন, শাহীন আলম খেজুরের গুড় তৈরির কাজে চলে এসেছেন আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের আব্দুল হাই এর বাড়িতে। জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মোট ১০০ থেকে ১৫০টি খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন তারা। তা থেকে খেজুরের গুড় ও স্থানীয় ভাষায় মধুরসা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রস্তুুত করা প্রতিটি গাছ থেকে সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ কেজি রস সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি গাছ থেকে শুরুতে এক থেকে দুই কেজি করে রস সংগ্রহ হয় ও আস্তে আস্তে তা বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে প্রতিদিন আনুমানিক পাঁচ কেজি করে খেজুরের গুড় তৈরি হয়। পুরো মৌসুমে প্রতিদিন ৩৫ কেজি থেকে ৪০ কেজি খেজুরের গুড় ও মধুরসা তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি খেজুরের গুড় ও মধুরসা বাজারে পাইকারদের কাছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। গাছি আফাজ উদ্দিন বলেন, বাপদাদার পৈত্রিক ব্যবসা ধরে তিনি বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত আসেন খেজুর রস থেকে গুড় তৈরির কাজে। এটিই আমার মূল ব্যবসা। বাকি সময় গুলো আমার এলাকায় কৃষি কাজ করি। খেজুর গাছ মালিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রস থেকে গুড় তৈরির জন্য স্থানীয়দের গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা আছে। প্রতিটি গাছের জন্য দুই কেজি গুড় দিতে হয়। শাহীন আলী বলেন, খেজুরগাছ তৈরির প্রস্তুুতি সম্পন্ন করার পর থেকেই মূলত রস নামানোর পর্ব শুরু হয়। গাছের মাথার নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের বানানো দুটি চোখা খুঁটি পোঁতা হয়। সঙ্গে দড়ি বা সুতা বেঁধে মাটির পাত্র ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পাত্রের ভেতর রস পড়ার জন্য বাঁশের তৈরি নালার মতো ভিন্ন একটি খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয় সেই গাছের সাথে, এভাবেই গাছির নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফোটায় ফোটায় ঝরে খেজুর রস। তিনি আরও বলেন, ৩-৫ মাস চলবর এই খেজুর রস ও গুড় তৈরি কাজ। প্রতিটি গাছ থেকে ১০-১২ কেজি গুড় তৈরি হয়। গাছ মালিকদের দিয়ে সব খরচ বাদে মৌসুমে শেষে আমাদের ভালো একটা লাভ থাকে। সুজাপুরের আব্দুল হাই বলেন, প্রতিবছর তারা রাজশাহী বাঘা উপজেলা থেকে আমার বাড়িতে ক্যাম্প করে খেজুরের রস সংগ্রহ করে পাটালি গুড় তৈরি করে। এখানে দুরদুরান্ত থেকে ব্যাপারি এবং এলাকার লোকজন গুড় নিতে আসে। তার এই গুড় খুবই ভালো। কোন রকম ভেজাল নেই। তাই চাহিদাও বেশি।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
