বিশেষ প্রতিনিধি : যমুনা নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এমপির বাজারসহ আশেপাশের দখলকৃত সরকারি ভূমি পুরোপুরিভাবে উচ্ছেদ করে নগরবাড়ী বন্দরের চাহিদা পূরণে বরাদ্দের আবেদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কঠোর হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ এর নগরবাড়ী-কাজিরহাট রদী বন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াকিল সম্প্রতি জেলা প্রশাসককে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন করেছেন। আবেদনপত্রে তিনি জানান, পাবনার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের নগরবাড়ীতে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত নতুন বাজার (এমপির বাজার) সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি বেড়া এর আওতাধীন। যা জেলা প্রশাসনের খাস জায়গা এবং নদীর তীরভূমি দখল করে ২০১৪ সালের অবৈধভাবে নির্মিত হয় এবং পরবর্তিতে গত কয়েক বছরে আরো বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে এবং হচ্ছে। ২০২২ সালে পাবনা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্বাবধায়নে এই এমপির বাজার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলে সঞ্জিব কুমার সাহা কর্তৃক মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে মোকদ্দমা (যার নম্বর-২২০২/২০২২) দায়ের করেন। মহামান্য আদালত পাবনা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (৫ নং বিবাদী) কর্তৃক জারীকৃত নোটিশ নং-৩৫.০১.৭৬০০.৪৫৯.১৮.০০৩.২২-২৯৭, তারিখ-০৭/০২/২০২২ এর উপরে ৬ মাসের স্থিতিঅবস্থার আদেশ জারী করেন এবং ৫ নং বিবাদীকে ২০২২ সালের ১৫ মার্চ এর মধ্যে আদালতে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তিতে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই সর্বশেষ শুনানীর পরে সুপ্রিম কোর্ট হতে মোকদ্দমাটি ডিলিট করা হয়। তিনি আবেদনপত্রে আরো অনুরোধ করেন যে, ভবিষ্যতে কেউ কোনোদিন যেনো নদী, নদীর তীরভূমি, সরকারি খাসজমি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি দখল করে বোগ করতে না পারে তারই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হিসেবেই সেখানকার নতুন বাজার (এমপির বাজার) সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা আবশ্যক। নগরবাড়ী ঘাটে মালামাল খালাস ও বোঝাই করার জন্য যে পরিমান জায়গা প্রয়োজন সে পরিমান জায়গা সেখানে নেই। ফলে কার্গো বোঝাই জাহাজসমূহকে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। জাহাজসমূহ থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে মালামাল খালাস / বোঝাই এবং খালাস পরবর্তী সাময়িক মজুতের প্রয়োজনে জায়গাটি ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও নগরবাড়ী ঘাটে নিয়মিতভাবে সারাবছর রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং এর প্রয়োজন হবে, ফলে ড্রেজিং ম্যাটেরিয়ার রাখার একটি সার্বক্ষণিক প্রয়োজন হবে। নগরবাড়ী ঘাট এলাকা এবং পুরাণভারেঙ্গা ইউনিয়নের সাধারন মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য অত্র এলাকায় উপযুক্ত কোনো হাট বাজার নেই। ফলে অত্র এলাকায় যদি খাস ভূমি থাকে সেখানে একটি উপযুক্ত বাজার গড়ে উঠতে পারে। এখানে নেই কোনো খেলার মাঠ বা কিশোর ও যুবকদের নেই বিনোদনের ব্যবস্থা। খাস ভূমি থাকলে সেটিরও বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তিনি জেলা প্রশাসককে দেওয়া আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন যে, নগরবাড়ী ঘাটে পূর্ণ বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন এক হাজার টন থেকে আড়াই হাজার টনের প্রায় ১০ টি লাইটারেজ জাহাজ মালামাল খালাসের অপেক্ষায় থাকে। আবার কিছু জাহাজ মালামাল বোঝাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকে। এছাড়া প্রতিদিন ৩ শ টন থেকে ১ হাজার টনের প্রায় ২০ টি ছোটো এবং মাঝারী বাল্কহেড মালামাল খালাস ও বোঝাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকে। মালামাল খালাস ও বোঝাইয়ের জন্য নগরবাড়ী ঘাটে নদীর পাড়ে পর্যাপ্ত জায়গা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ২০১৮ সালে নগরবাড়ী ঘাটে প্রায় ৫৬৩ কোটি টাকার বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করে যা জুন-২০২৫ সালে সমাপ্ত হবার কথা রয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের অধীনে উন্নয়নকৃত বন্দর সুবিধা গ্রহন করে একসাথে সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ ৫ টি লাইটারেজ জাহাজ মালামাল খালাস/ বোঝাই করতে পারবে যা নগরবাড়ী ঘাটের চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। ফলে যমুনা নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এমপির বাজারসহ আশেপাশের দখলকৃত সরকারি ভূমি পুরোপুরিভাবে উচ্ছেদ করে নগরবাড়ী বন্দরের চাহিদা পূরণে যথাযথ উদ্যোগ নিতে তিনি জেলা প্রশাসককে বীনিতভাবে অনুরোধ জানান।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
