স্টাফ রিপোর্টার : নেই কোনো পদ, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেই, নির্দিষ্ট কোনো বেতনও নেই। তারপরও বছরের পর বছর উপজেলা পরিষদের চেয়ার আঁকরে ধরেছিলেন তিনি। তার দাপটে অতিষ্ট ছিলেন সেবা নিতে আসা অনেক মানুষ। অলিখিতভাবে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি হতো তার হাত ধরে। তাঁর নাম ইকবাল হোসেন। তিনি জেলার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। একটি প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক তিন বছর চাকরির মেয়াদ ছিল তার। তারপর থেকে ৭ বছর তার ওই পদ ছিল না। অথচ বহাল তবিয়তে চাকুরী করে গেছেন ইকবাল। অভিযোগ রয়েছে, যখন যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাটমোহরে এসেছেন তখন তাকেই ম্যানেজ করে নিজের চেয়ারটি দখলে রেখেছেন তিনি। আর এ চেয়ারটি দখলে রেখে অবৈধ আয়ের টাকায় বিলাসী জীবন যাপন করতেন। তার বেতনের টাকা কোথা থেকে আসে, কে দেয় তাও অজ্ঞাত। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র-জনতা তার গোমড় ফাঁস করে দেয়। তারপর থেকে অফিস ছেড়ে পলাতক রয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা পর্যায়ের ৫৫টি এবং উপজেলা পর্যায়ের ৩০টি সরকারী দপ্তরকে একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে ইনফো সরকার প্রকল্পের আওতায় ন্যশনাল ব্যাকবোন স্থাপনের কাজ হাতে নেয়। বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার পক্ষে শেখ জাবের আল শিহাব, ওয়াহিদিল সরকার ও ফয়সাল কবির জানান, ২০১৪ সালে ইকবাল হোসেন এ প্রকল্পে চাটমোহর উপজেলা টেননিশিয়ান পদে চাকরী পান। ২০১৭ সাল পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তারপর থেকে অদ্যাবধি বহাল তবিওতে ওই পদে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইকবাল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ বিষয়টি জানলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাকে দিয়ে সরকারের গুরত্বপূর্ণ গোপনীয় ফাইলসহ সমস্ত কার্যক্রম চালিয়ে নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি পাশর্^ডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেলা ওয়াকফ হাটের ইজারা কার্যক্রমের সময় আব্দুল জব্বারের তারিখ বিহীন দরপত্র গ্রহণ করেন এবং ২৫ মে’র আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত হাটের খাস আদায়ের চিঠি দেওয়া হয়। এটা কোন ধরনের অনিয়ম বোঝা যায়। এছাড়াও ইকবালের বিরুদ্ধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন, মাটি কাটা, হাট-বাজারের ইজারা, বিভিন্ন জাতীয় উৎসব পালনে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ইউএনওর নামে অর্থ আদায় করতেন। ইকবালের অবৈধ পন্থায় চাকুরী করা, দূর্নীতির প্রতিবাদ ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে চাটমোহরের ছাত্র জনতা গত ১৫ আগস্ট পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। এর মাঝে রোববার (১৮ আগস্ট) চাটমোহর উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে দূর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন করেন ছাত্র জনতা। মানববন্ধন থেকে ইকবালের সাত বছরের অপকর্ম তদন্ত পূর্বক শাস্তির দাবী জানানো হয়। অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন নাম্বার থেকে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদে তার অফিস কক্ষে গিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। তার সহকর্মীরা জানান, গত বুধবার থেকে আর অফিসে আসেননি ইকবাল। এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম (ইউএনও) বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। গত বুধবার জানার পরপরই তাকে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
