ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : ভাঙ্গুড়ায় অপ্রয়োজনীয় ও পরিত্যাক্ত খাল খনন করে সরকারি ১০ লাখ টাকা অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পুঁইবিল গ্রামে কলিকাদহের জোলা নামে এই খাল খনন করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। বিএডিসির এমন খামখেয়ালিপনার কারণে এলাকার কৃষকরা সরকারি টাকা অপচয় রোধে এই অপ্রয়োজনীয় খাল খনন বন্ধে উপজেলা বিএডিসি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। জানা যায়, যমুনা নদীর শাখা নদী ভাঙ্গুড়া উপজেলার গুমানি নদী থেকে কলিকাদহের খাল দিয়ে ভাঙ্গুড়া সদর ও দিলপাশার ইউনিয়নের পুঁইবিল, কৈডাঙ্গা ও বাওনঞ্জান মাঠে বন্যার পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন হতো। কৃষকরা ফসল চাষাবাদে এই খালের পানি ব্যবহার করত। কিন্তু আশির দশকের শুরুতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী থেকে রাজশাহীর চারঘাট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে সেসময় গুমানি নদীর মুখে কালিকাদহের খাল ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সাথে এই খালের এক কিলোমিটার উত্তরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে স্লুইস গেট ও মাঠের মধ্যে পানি প্রবেশের জন্য নতুন খাল নির্মাণ করা হয়। এই স্লুইস গেট দিয়ে এই অঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন হয়। এতে কালিকাদহ খাল অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। উপরন্ত দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা এই খাল ভরাট করে ফসল পরিবহনের জন্য উপযোগী করার জন্য দাবি করে আসছেন। বুধবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিকদহের খালের পশ্চিম পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কারণে পানি প্রবেশ করে না। খালের পূর্ব পাশে বাওনঞ্জান খাল বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য মৌসুমে পানি শূন্য থাকে। ফলে কালিকাদহ খাল ফসল চাষাবাদের সময় পানি শুন্য থাকায় কোন কাজে আসে না কৃষকের। এরপরও জেলা বিএডিসি অফিসের উদ্যোগে ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে পাবনার ঠিকাদার আব্দুল খালেক নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে এই অপ্রয়োজনীয় খালটি খনন করা হচ্ছে। ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্য এই খালের এক-চতুর্থাংশ খনন কাজ এরই মধ্যে শেষ করেছে ঠিকাদার। খননের মাটি রাখা হয়েছে কৃষকদের জমির ওপর। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। তাই কৃষকদের বাধার মুখে গত তিন দিন হল কাজ বন্ধ রয়েছে।
পুঁইবিল গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ৪০ বছর আগে বাঁধ নির্মাণের কারণে এই খালে আর পানি থাকে না। তাই এই খালের আর কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু অহেতুক সরকারি টাকা ব্যয়ে বিএডিসি অফিস স্বেচ্ছাচারিতা করে এই খাল খনন করছে। এতে কৃষকের জমিতে মাটি ফেলে জমি নষ্ট করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা কয়েকজন ভুক্তভোগী কৃষক উপজেলা বিএডিসি অফিসে কাজ বন্ধের আবেদন জানিয়েছি। ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বলেন, এই খাল খননের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ বাঁধের কারণে খালটি অকেজো। কিসের উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় পরিত্যক্ত খাল খনন করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। উপজেলা বিএডিসি প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ বলেন, প্রকল্পটি পাস করা হয়েছে বলে কাজ করা হচ্ছে। এখন কৃষকের কাছে খালটি খননের প্রয়োজন না হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে বাকি টাকা অপচয় রোধ হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, মাঠের মধ্যে কৃষি কাজে ব্যবহার না হলে সেই খাল খননের কোন প্রয়োজন নেই। খা খাল খননের পূর্বে কৃষি অফিসের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল বিএডিসি অফিসের। বিষয়টি নিয়ে বিএডিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব। এ বিষয়ে কথা বলতে বিএডিসির পাবনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
