স্টাফ রিপোর্টার : মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে সদরের দাপুনিয়া এলাকার আলোচিত আজাদ (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু, ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও রক্তমাখা জ্যাকেট উদ্ধারসহ আসামী সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১১ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাদী আব্দুল হাকিমের ছেলে আজাদ (২২) নিজ বাড়ী হতে একটি কালো রংয়ের ডিসকভার মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়ানোর কথা বলে বের হয়ে গেলেও আর ফেরত আসেনি। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজি করে ১২ মার্চ বিকালে পাবনা সদর থানায় এসে বাদী নিখোঁজ জিডি করেন, যার জিডি নং-৮৩৫, তাং-১২/০৩/২০২৪। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ১৩ মার্চ বেলা সাড়ে বারোটার দিকে ভিকটিম আজাদ এর ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ দাপুনিয়া ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায় মোশাররফ চেয়ারম্যান এর খামারের পাশে লিচু বাগানে পাওয়া যায়। বর্নিত ঘটনা সংক্রান্তে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসীর সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাসুদ আলম বিপিএম এর নেতৃত্বে, অফিসার ইনচার্জ, পাবনা থানা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) জাহেদুল ইসলামসহ পাবনা থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি যৌথ টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী দাপুনিয়া ইউনিয়নের চয়ঘরিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে আব্দুস সামাদ সম্রাট (২৮) কে গ্রেফতার করা হয়। আসামীকে ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপযায়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, তারা পরষ্পর ঘনিষ্ট বন্ধু এবং এক সাথে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। প্রায় ১ মাস পূর্বে আসামী ভিকটিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াইতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে উক্ত মোটরসাইকেল মেরামত বাবদ ভিকটিমের ২ হাজার টাকা খরচ হয়। এরই মাঝে ১ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। বাকি ১ হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আসামী ও ভিকটিমের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। সেই থেকে আসামী ভিকটিমকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী কৌশলে ভিকটিমকে ১১ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে মামলার ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং কথা-বার্তার একপর্যায়ে আসামীর কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ভিকটিমের গলায় ও চোখের নিচে আঘাত করে নিশ্চিত করে টেনে হেঁচড়ে ঘটনাস্থলে থাকা সীম গাছের শুকনা লতাপাতা নিচে ঢেকে রাখে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ঘটনাস্থলের পাশে ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়। ভিকটিম এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমের গায়ে থাকা রক্তমাখা জ্যাকেট (ট্র্যাকস্যুট জাতীয়) নিয়ে ঘটনাস্থল হইতে চলে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পথিমধ্যে ছয়ঘড়িয়া গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে আসামীর রক্তমাখা জ্যাকেট (ট্র্যাকস্যুট জাতীয়) এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ডিজিটাল নম্বর প্লেট আসামী তার নিজ শয়ন ঘরে রেখে ভিকটিম এর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে নাটোর জেলার লালপুর থানার মোহরকয়া গ্রামস্থ জনৈক মোঃ ফারুক শেখ (২৮) এর বাড়ীতে রেখে আসে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ আব্দুস সামাদ সম্রাট (২৮) এর স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ভিকটিমের ব্যবহৃত সোনালী রংয়ের সিমফোনী মোবাইল ফোন, ডিসকোভারি ১২৫ সিসি মোটর সাইকেল, পরিহিত রক্তমাখা জ্যাকেট ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। আসামি সম্রাট উক্ত হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
