স্টাফ রিপোর্টার : ২০০৯ সালে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলার দু’টি নিষ্পত্তি হলেও, ১৫ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি বিস্ফোরক মামলা। আর এতে দুশ্চিন্তা আর নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছেন স্বজনরা। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে তাদের মুক্তির দাবি তাদের। গতকাল দুপুরে পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্ফোরক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী তিনটি পরিবারের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কারাগারে থাকা বিডিআর হারুন অর রশিদের ভাই শফি আহমেদ, মোকাররম হোসাইনের ভাই রফিকুল ইসলাম ও রজব আলির ছেলে শরিফুর রহমান। তারা তিনজন আলাদাভাবে তিনটি দরখাস্ত জমা দেন। এদের মধ্যে হারুন অর রশিদের বাড়ি বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুরে, মোকররমের বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলার গয়েশবাড়িতে এবং রজব আলির বাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলায়। লিখিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যে আমাদের স্বজনরা বিডিআর আইনের সাজা ভোগ শেষ করেছে। ফৌজদারি আইনে হত্যা মামলা হতে কেউ খালাস পেয়েছেন, আবার অনেকে হত্যা মামলায় ফৌজদারি আইনে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ভোগ শেষ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ১৫ বছর যাবত শুধু বিস্ফোরক মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং সাংবিধানিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও জামিন না পাওয়া আমাদের স্বজনদের আমরা ফিরে পাচ্ছি না। আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি কারাগারে থাকায় আমরা মানবতার জীবনযাপন করছি। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকায় আমাদের স্বজনরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় রয়েছে। পিলখানার সংঘটিত ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক মামলাটি ইতিমধ্যে ১৫ বছর পার হয়ে গেছে। ‘হত্যা মামলাটির ২ বছর ১১ মাসে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রায় প্রদান করা হয়। কিন্তু বিস্ফোরক মামলাটি আজ ১৫ বছর দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নাই। আমরা বারবার বিস্ফোরক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা নিম্ন আদালতে আবেদন করলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।’ বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামি মোকাররম হোসেনের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি উচ্চ আদালতে পরিচালনার জন্য আমরা আর্থিকভাবে অক্ষম বিধায় পুরোপুরিভাবে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারছি না এবং আর্থিক অভাব অনটনের কারণে আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারছি না।’ রজব আলির ছেলে শরিফুর রহমান বলেন ‘শুধু বিস্ফোরক মামলার কারণে ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের স্বজনেরা কারাভোগ করছে। সাংবিধানিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও জামিনে মুক্তি বা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। বিস্ফোরক মামলাটি অতি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানাই।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মু. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহ মামলার ৩ জন আসামির স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমার দপ্তরে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা আবেদনপত্রগুলো ঢাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।’
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
