রওশন আক্তার রূপা : “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি? ” যে মমত্ব আর আবেগ মিশিয়ে গানটা রচিত হয়েছিলো, বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মনের মধ্যে সেই আবেগ এখন খুঁজে পাওয়া দায়। এখনকার ছেলেমেয়েরা খিচুড়ি ভাষায় কথা বলতে, এলোমেলো পোশাকে চলতে, বিদেশি খাবার খাওয়াকে আধুনিকতা মনে করে। আসলেই কি এগুলোকে আধুনিকতা বলে? যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারিপাশির্^ক উন্নয়নের পাশাপাশি বিদেশি ভাষার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে, তবে তার আগে নিজের ভাষার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া বেশি জরুরী। নিজের মাতৃভাষায় কথা বলা বা ভাব প্রকাশ করার শান্তিই আলাদা। যে ভাষাকে আপন করে পেতে রক্ত ও প্রাণ দিলো হাজার হাজার ভাষা শহিদ। সেই ভাষায় সঠিক উচ্চারণে কথা বলতে যেনো কুন্ঠিতবোধ করে নতুন প্রজন্মের কিছুসংখ্যক মানুষ। তারা ‘একুশ’ কি জানেনা, ভাষা শহিদদের নাম জানেনা, একুশের ইতিহাস জানেনা, বাংলা বছরের বারো মাসের নাম জানতে চাইলে বলতে পারেনা। মাতৃভাষা সম্পর্কে এমন উদাসীনতা মর্মাহত করে, খুব দুঃখ হয় সেসব ভাষা শহিদের জন্য, প্রচন্ড আক্ষেপ কাজ করে অনুভূতিতে। মনে হয়, কি দরকার ছিলো এই অকৃতজ্ঞ প্রজন্মের জন্য এতো রক্ত ঝরানোর? তৎক্ষনাৎ মন বলে কিছু সংখ্যক মানুষ তো আছে, যারা কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করে সম্মান জানায় বিদেহী আত্মাগুলোর প্রতি। যে মানুষ নিজের মা কে ও নিজের ভাষাকে ভুলতে বসে অসম্মান করে, সে যেনো তার নিজের মায়ের অস্তিত্বকে ভুলে যায়, সে মানুষ শুধু আক্ষরিক অর্থে মানুষ; প্রকৃতঅর্থে মানুষ নয়। মাতৃভাষা তো মায়ের মতোই সম্মানের স্থানে অধিষ্ঠিত থাকার কথা। আমরা যতোই আধুনিক হইনা কেনো, আমাদের মাতৃভাষাকে সেই সম্মানের জায়গাতেই যেনো রাখি চিরকাল। এই বারতা পৌঁছে দিতে হবে আমাদেরই, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। জাতি হিসেবে আমরাই প্রথম যারা নিজের মাতৃভাষার জন্য রক্ত ঝরিয়ে দিয়েছি অকাতরে, যারা নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার ছিনিয়ে নিতে প্রাণ দিয়েছি শর্তহীন স্বার্থহীন। বাংলা আমার মায়ের ভাষা, এই ভাষাতেই গর্ব। লাখো শহীদের রক্ত আর-কোটি ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া-মাতৃভাষার সম্মান, কভু হতে দেবোনা খর্ব। একুশ মানেই শ্রদ্ধা জানাই তাঁদের বিনম্রতায় যাদের অবদানে কথা বলার–অধিকার হলো আদায় মাতৃভাষা বাংলায়। একুশ মানে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,আমি কি ভুলিতে পারি ” প্রভাতফেরীর গান। একুশ মানে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারসহ ভাষা-শহীদের প্রতি টান। (লেখক : প্রভাষক, দর্শন টেবুনিয়া মহিলা কলেজ)
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
