এফএনএস বিদেশ : টানা ৪৮ দিন যুদ্ধ শেষে গত ২৪ নভেম্বর থেকে চার দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। পরে যুদ্ধবিরতি চলে টানা সাত দিন। যুদ্ধবিরতি শেষে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আবারও হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয় ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গতকাল শুক্রবার সকালে ইসরায়েল গাজা উপত্যকাজুড়ে বিমান হামলা শুরু করে। উপত্যকার অন্তত ১০০টি স্থানে গোলা বর্ষণ করেছে ইসরায়েলি সেনারা। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা পর গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান হামলায় ইতোমধ্যে ৩২ জন নিহত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা এএফপিকে বলেছেন, ইসরায়েলি হামলায় মধ্য গাজার আল-মাগাজিতে ১০ জন, দক্ষিণের রাফাহতে ৯ জন এবং উত্তর গাজা সিটিতে পাঁচজন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)-এর অভিযোগ, গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার আগে জিম্মি হস্তান্তরের তালিকা সরবরাহ না করে হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পক্ষে আমরা জোর দিচ্ছি। ইসরায়েলি সরকার যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের জিম্মিদের মুক্ত করতে, হামাসকে নির্মূল করতে এবং গাজা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না, তা নিশ্চিত করতে। সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে কয়েক শ ফিলিস্তিনি বন্দি এবং ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পায়। এ ছাড়া গাজায় মানবিক সহায়তাও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল বলেছিল, তারা গাজা থেকে ছোঁড়া একটি রকেট ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সময়সীমার কয়েক মিনিট আগে গাজার নিকটবর্তী ইসরায়েলি এলাকায় রকেটের সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি এ বিষয়ে। সূত্র : রয়টার্স, আল-অ্যারাবিয়া
