এফএনএস বিদেশ : কাতারের মধ্যস্থতায় অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে চার দিনের এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। তবে এ বিরতি শেষে আবারও হামলা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধ বিরতি শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি আসলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট গাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোষ্টে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। মানবিক বিরতি সাময়িক। বিরতি শেষ হলে আরও অন্তত দুই মাস হামাসের বিরুদ্ধে তীব্রতর লড়াই চালিয়ে যাবে ইসরায়েলের বাহিনী। ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, সামনের দিনগুলোয় আপনারা যেটা দেখবেন তা কেবল জিম্মিদের মুক্তি। তবে এটা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হবে। সেনাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিরতির সময় সংগঠিত হতে হবে। এ সময় প্রস্তুতি নিতে, তদন্ত করতে, আরও অস্ত্র সরবরাহ করতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। উল্লেখ্য, গত দেড় মাস ধরে চলমান ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদে ১৪ অক্টোবর প্রথম বার গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে রাশিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আপত্তির কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তার দুই দিন পর ১৬ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় মানবিক বিরতির আহ্বানের প্রস্তাব উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রও। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের আপত্তির কারণে সেটিও বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ গত সপ্তাহে কাতারের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল কাতারে অবস্থানরত হামাসের হাইকমান্ড। প্রস্তাবে বলা হয়, যদি ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি, কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তি, উপত্যকায় ত্রাণপণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে প্রবেশ এবং আহত বেসামরিকদের উপত্যকার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের অনুমতি দেয় তাহলে নিজেদের হাতে থাকা জিম্মিদের মধ্যে ৫০ জনকে মুক্তি দেবে হামাস। ইসরায়েল এই প্রস্তাব মানতে না চাইলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরলস প্রচেষ্টা, সেখানকার জনগণ ও জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের চাপে ২১ অক্টোবর এক জরুরি বৈঠকে সেই প্রস্তাবে সায় দিতে বাধ্য হয়। বৃহস্পতিবার থেকে হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা অবশেষে ১ দিন পিছিয়ে শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে।
