ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : দেড় মাস আগে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উদ্বোধন করা হয় অনলাইন ভিত্তিক কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠান রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্ক। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও থানার ওসি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্থানীয় যুবক সুমন ও শাকিল সহ কয়েকজন যুবক প্রতিষ্ঠানটি করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী যুবকরা বিলাস বহুল জীবনযাপন শুরু করেন। প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ করে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা ঐশিকে নিয়ে এসে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালান। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে, শীর্ষ ব্যক্তিদের উপঢৌকন পাঠিয়ে স্থানীয় তরুণদের আকৃষ্ট করছেন রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্ক। মাত্র দেড় মাসে বেকার কয়েকজন যুবকের জীবন যাত্রার পরিবর্তন ও লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে সংস্কৃতি অনুষ্ঠান পরিচালনা করায় চরম হতবাক সুশীল সমাজ। এ নিয়ে কালের কন্ঠ গত এক সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালায়। এতে বেরিয়ে আসে এই যুবকদের অনলাইনে পর্নোসাইটে কাজ করে কোটি টাকা আয়ের অবৈধ উৎস। রিয়েল সিপি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানটি পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের চৌবাড়ীয়া ভদ্রপাড়া মহল্লায় একটি ভবনে পরিচালিত হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্কের অধীনে উপজেলায় তিন শতাধিক সক্রিয় কর্মী রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭ শতাধিক কর্মী অনিয়মিত কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে। প্রতিষ্ঠানটি এসব কর্মীদের কাছে ২৫০০ থেকে চার হাজার টাকা করে ডোমেইন বিক্রি করে। এসব ডমেইনে নগ্ন ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের তরুণ ও তরুণীদের ডেটিং সাইটে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তরুণ-তরুণীদের নগ্ন চ্যাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে মূল প্যানেলের পরিচালনাকারী রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্ক প্যানেলের একাউন্টে মোটা অংকের ডলার জমা হয়। এই ডলারের আংশিক দেয়া হয় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মীদেরকে। এদিকে রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্কের মত ভাঙ্গুড়া বাজারে একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত এসব নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানের যুবকরা কাজ করে। অভিযোগ আছে সারারাত জেগে কাজ করার এনার্জি জোগাতে এসব যুবকদের অনেকে মাদকের সঙ্গেও জড়িত হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসলেও কোন প্রতিকার মেলেনি। এসব অবৈধ অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য কর্মী কাজ করছে। এসব কর্মীদের কাছে বিক্রি করা ডোমেইনের ১ বছর মেয়াদ থাকলেও প্যানেলের পরিচালকরা ডোমেইন ব্লক করে পুনরায় নতুন ডোমেইন বিক্রি করে কর্মীদের কাছ থেকেও কৌশলে টাকা হাতাচ্ছে। গত সপ্তাহে রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্কের পরিচালকদের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে কর্মীদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এতে পাশর্^বর্তী চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল গ্রামের কর্মী ফিরোজ আহমেদকে আটকে রেখে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় ছাড়া পায় ফিরোজ। তবে ফিরোজের মোবাইল রেখে দেয় রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্কের পরিচালকরা। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে চেপে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্কের পরিচালকদের মোবাইল নাম্বারে বারবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ভাঙ্গুড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ রঞ্জু বলেন, কয়েকজন বেকার যুবকের রাতারাতি ধনাঢ্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক। তাই বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, রিয়েল সিপিএ নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে থানায় সাইবার শাখায় দক্ষ কর্মকর্তা না থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এ সময় ফিরোজ নামে এক কর্মীকে আটক করে টাকা দাবির ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কোনো ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইনে কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠান উপজেলায় নেই। তাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম খতিয়ে দেখার জন্য পরিচালকদের অফিসে ডাকা হয়েছে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
