শামীম হাসান মিলন : চাটমোহর উপজেলা শহরে ক’দিন আগেও শাহীন নামে যে প্রতিবন্ধী ছেলেটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ভিক্ষা করতেন। এখন তা ছেড়ে ছেড়ে দিয়েছেন। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সোমবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে হলেন তিনি ব্যাবসায়ী। পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় কাজ করতেন টগবগে যুবক শাহীন। কিন্তু ভাগ্যোর নির্মম পরিহাস শাহীন বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই পা, একটি হাত হারান। তারপর থেকে কর্মহীন হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে পেট চালাতেন। প্রতিবন্ধী শাহীন বলেন, ভিক্ষা করতে গিয়ে লজ্জায় পড়তে হতো বিভিন্ন সময়। আজ (সোমবার) থেকে বলতে পারবো এখন আমি ব্যবসা করি। ভিক্ষার চেয়ে ব্যবসা অনেক সম্মানের। এখন আমি গর্ব করে বলবো, আমি প্রতিবন্ধী হয়েও অন্যের দ্বারস্থ না হয়ে রোজগার করে খাই।
চাটমোহরে ভিক্ষুক পূর্ণবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক শাহীন হোসেনকে মুদি দোকানঘর সহ বিপনীর মালামাল প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামে দোকানঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা প্রসাশন ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে ভিক্ষুক পূর্ণবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ভিক্ষুকের মাঝে উপকরণ বিতরণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের আনছার প্রামানিকের ছেলে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক শাহীন হোসেনকে দোকানঘর ও দোকানের মালামাল প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: মমতাজ মহল। এ সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক শাহীন হোসেন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া দোকানঘর পেয়ে আমি খুব খুশি। এখন থেকে আর মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে ভিক্ষা করতে হবে না। সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবো। এই উপকারের কথা কোনদিন ভূলবো না। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ভিক্ষুক শাহীন পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় কাজ করতেন। বৈদ্যুতিক পোলে কাজ করার সময় দূর্ঘটনায় তার দুই পা ও একটি হাতে কেটে ফেলতে হয়। তারপর থেকে শাহীন ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মুদি দোকানের মাধ্যমে শাহীন স্বাবলম্বী হতে পারবে। এবং সমাজে তার মর্যাদা ফিরে আসবে। সরকারের ভিক্ষুক পুর্নবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান একটি চলমান কর্মসূচি আগামীতে এ ধারা চলমান থাকবে। শাহীন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে ব্যবসা করে পরিবারের সদস্য নিয়ে এ থেকে আয় করে সুখী জীবন যাপন করবে বলে আশা করছি।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
