স্টাফ রিপোর্টার : মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে দুর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশীর একজন চাটমোহর উপজেলার আহেদ আলীর মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মাঝে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন আহেদ। কিন্তু দূর্ঘটনায় তার মৃত্যুর সাথে শেষ হয়ে গেছে পরিবারের সব স্বপ্ন। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা আহেদ আলীর স্ত্রী। পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের সাঁইপাই গ্রামের মৃত ওসমান মন্ডল ও আবেদা খাতুন দম্পতির ছেলে আহেদ আলী। ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে পঞ্চম সন্তান আহেদ। ধার করে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ করে বছর দেড়েক আগে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানকার পেনাং রাজ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল অভাবী সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফেরানোর। দুই ছেলেকে মানুষ করার। এজন্য ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ফ্রি ভিসায় মালয়েশিয়ায় যান আহেদ আলী। গত ২৮ নভেম্বর কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আহেদ আলী সহ তিন বাংলাদেশী শ্রমিকের। মৃত্যুর খবর পাবার পর থেকে দিশেহারা আহেদ আলীর স্ত্রী হালিমা খাতুন রত্না। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যত চিন্তায় তার কান্না যেন থামছেই না। তার আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। কিভাবে শোধ হবে ঋণের টাকা। কিভাবেই বা চলবে সংসার। দুই শিশু ছেলে বুঝতে পারছে না কি হারিয়েছে তারা। আহেদ আলীর স্ত্রী হালিমা খাতুন রত্না বলেন, ‘মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় তার সাথে শেষ কথা হয়। সবার খোঁজ খবর নিলো। তখন আমি বলেছিলাম, কাজে ব্যস্ত আছি। পরে আবার কথা কবোনে। সে বললো, আমিও তো ব্যস্ত থাকপোনে। কথা হবিনি কি না। সত্যি আর কথা হলো আর। স্বামীর লাশটা শেষবারের মতো দেখপের চাই।’ আহেদ আলীর দুই ছেলে রাসেল (১২) ফৈলজানা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি এবং ছোট ছেলে রাহিম হোসাইন (৮) সাঁইপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। স্ত্রী হালিমা খাতুন রত্না বলেন, ‘এখনও দুই লাখ টাকা ঋণ রইছে। সেই টাকা এখন কিভাবে পরিশোধ করবো, আর ছাওয়াল দুইডেক মানুষ করবো কিভাবে। আমার তো সব শ্যাষ হয়া গেলো। এখন আমরা কি করবো, দুই ছাওয়ালেক লিয়ে কোনে যাযা দাঁড়াবো। ’আহেদের ভগ্নিপতি নাজিম উদ্দিন জানান, ‘যেদিন আহেদ ভাই মারা যান সেদিনই আমার সাথে কথা বলতে বলতে ফোনটা অন্য প্রান্ত থেকে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। শুধু একটা শব্দে ফোন কল বিছিন্ন হয়ে যায়। ফোন কল বিছিন্ন হওয়ার আগে বাড়ি-ঘর মেরামত সহ বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সাথে।’ আহেদ আলীর সত্তোর্ধ বৃদ্ধ মা আবেদা খাতুন (৭০) ভালো করে হাঁটতে পারেন না। ছেলের শোকে কথা বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন। কাঁদতে কাঁদতে তার দু’চোখ শুকিয়ে গেছে। শুধু দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ছেন আর ছেলেকে ডাকছেন। ছেলের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানান তিনি। আহেদ আলীর একই গ্রামের বাসিন্দা খবির উদ্দিন একসাথে থাকতেন মালয়েশিয়ায়। কিছুদিন আগে অসুস্থ্যতার জন্য চলে বাড়িতে এসেছেন তিনি। খবির উদ্দন বলেন, ‘ওর জন্য কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমরা একসাথে থাকতাম। কত স্মৃতি, কত কথা বলে শেষ করতে পারবো না। ছেলেটা খুব ভাল ছিল।’ প্রতিবেশি জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, ‘দরিদ্র আহেদ আলীর মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি। সেইসাথে দুই শিশু সন্তানসহ অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারের কাছে আহবান জানান তিনি। এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেদুয়ানুল হালিম বলেন, ‘এ বিষয়ে তাদের কিছু করণীয় নেই। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।’
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
