মাসুদ রানা : পূর্ব আকাশে তখনও উঁকি দেয়নি সূর্য। ভোরের কুয়াশায় অন্ধকারাচ্ছন্ন চারপাশ। শীতের আগমনী বার্তায় শিশিরে ভেজা মাঠের ঘাস। এমন পরিবেশে হাজার হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী মাছ ধরতে এসেছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রুহুল বিলে। এই মাছ শিকারের উৎসব দেখতে আসেন আরো হাজারো দর্শণার্থী। শত শত বছর ধরে চলে আসছে এই উৎসব। তবে স্থানীয় অসাধু মৎস্যজীবীদের বিলে বিষ প্রয়োগ ও নিষিদ্ধ চায়না জাল ব্যবহারের কারণে বিল মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। এতে মৎস্য শিকারীদের পলোতে সাজানো বড় বড় দেশীয় মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার সেই চিত্র এ বছর দেখা যায়নি। আজ মঙ্গলবার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া গ্রামে প্রায় ৯৫০ বিঘা আয়তনের রুহুল বিলে এই চিত্র দেখা যায়। প্রতি বছরের অগ্রহায়ণ মাসে সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার এই বিলে পলো দিয়ে মৎস্য শিকার উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয় সৌখিন মৎস শিকারীরা। স্থানীয় ভাষায় যা পলো উৎসব নামে পরিচিত। জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৯০০ বিঘা আয়তনের এই বিলটি একসময় মাছ ধরা সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কয়েক বছর আগে সরকারিভাবে এই বিল ইজারা দেওয়া শুরু হয়। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিল ইজারা নেওয়ার পর থেকেই মাছ ধরতে নানা ধরনের অবৈধ পন্থা অবলম্বন করেন। পলো উৎসবের নির্ধারিত দিনক্ষণের পূর্বেই এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গ্যাস ট্যাবলেট, ন্যাপথন সহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল পানিতে প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে। এছাড়া নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ও সৌতি জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা সহ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বিলের মধ্যে উপজেলা মৎস্য অফিস অভয়াশ্রম স্থাপন করলেও সেই স্থানেও বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছের প্রজনন ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সাধারণ মৎস্যজীবীদের। মৎস্য শিকারী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাবনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও রাজশাহী থেকে প্রায় অর্ধশত যাত্রীবাহী বাস রিজার্ভ করে মাছ ধরতে এসেছেন কয়েক হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী। আগত এসব বাস পাটুলি পাড়া গ্রামের মহাসড়কের পাশ দিয়ে রাখা হয়েছে। মাঝরাতে পৌঁছানোর পর সৌখিন এসব মৎস্যজীবীরা বাসের মধ্যেই রাত কাটান। ভোরের অন্ধকারাচ্ছন্ন কাটলেই সবাই বের হয়ে চলে যায় বিল পাড়ে। একই সময়ে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে জড়ো হয় বিল পাড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, আগতরা বিভিন্ন ধরনের ধ্বনি দিয়ে বিলে নেমে পড়ে মাছ শিকার করতে। সকাল ১০টা পর্যন্ত পলো ও জাল দিয়ে বিলের এপার থেকে ওপার পর্যন্ত মাছ শিকারের চেষ্টা চলে এসব সৌখিন মৎস্য শিকারীদের। তবে এ বছর মাছ না পেয়ে অধিকাংশ শিকারী অনেকটা হতাশ হয়ে বিল ছাড়ে। এ সময় অনেক ছোট প্রকৃতির মরা মাছ পানিতে ভাসতে দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরার কারণে এসব ছোট মাছ মারা গেছে বলে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ। অথচ এসব বিষাক্ত পদার্থ নদী ও খাল -বিলে ব্যবহার আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষেধ। অভিযোগের বিষয়ে আংশিক বিল ইজারাদার পাটুলীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা দিয়ে বিল ইজারা নিয়ে কেন অন্যদেরকে মাছ মারতে দেবো। তাই যে কোন উপায়ে বাউৎ (সৌখিন মৎস্যজীবী) নামার আগেই মাছ মেরে নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে সব ধরনেরই জাল ব্যবহার করি।’ টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে মাছ ধরতে আসা আব্দুল আউয়াল বলেন,‘ ১০-১২ বছর ধরে মাছ ধরতে আসি এই বিলে। মাছ ধরা আমার পেশা নয়। আনন্দ উৎসবের জন্য মাছ ধরতে আসি। তবে এই বছর কোন মাছ নেই। বিষাক্ত কেমিক্যালে ও নিষিদ্ধ জালে বড় বড় মাছ মেরে নেওয়া হয়েছে। এতে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে।’ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ‘পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। এছাড়া নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারে মৎস্য প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। তবে মৎস্য অফিসের জনবলের অভাবে এসব কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তর একত্রে উদ্যোগ নিলে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব হবে।’
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
