স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিপক্ষের গুলিতে ঈশ^রদীর পাকশীতে নিহত হয়েছে তাফসির আহম্মেদ মনা (২৩) নামের ছাত্রলীগ কর্মী। গত কয়েক বছরে মনাসহ পাকশীতে আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠনের ৭ নেতা-কর্মী খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকান্ডের ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও কোন হত্যাকান্ডের ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। শনিবার রাত ১১ টার দিকে উপজেলার লক্ষীকুন্ডার এমপি মোড়ে ছাত্রলীগের মনা হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মনা ঈশ^রদীর পাকশী ইউনিয়নের পাকার মোড় এলাকার সৌদি প্রবাসী তানজুর রহমান তুহিনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মনা এমপি মোড়ে ট্যাঙ্ক লরি ও কাভারভ্যানের শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বসেছিলো। এসময় ৪-৫ জনের অস্ত্রধারী মুখে কাপড় বেধে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। মনাকে উদ্দেশ্য করে তারা চার রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে চলে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা মনাকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহত মনার ভাই টুনটুনি ওরফে হাতকাটা টুনটুনি পাকশীতে যুবলীগের নেতা। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে ৫ টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। ঈশ^রদী থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইন শৃংখলা বাহিনীর একাধিক দল হত্যার কারণ উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ শিহাব জানান, মনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল। পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ না হওয়ায় তার কোন পদ-পদবী ছিল না। তবে কমিটি প্রকাশ হলে অবশ্যই মনা একটি ভালো পথ পেতো। যারা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি। মনা নিহতের কারণ প্রসংগে পারিবারিক সূত্র এবং এলাকার লোকজন ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তবে সকলেই মূখ খুলতে এবং নাম প্রকাশ করতে নারাজ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ বলছেন, পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর ফটু মার্কেট সংলগ্ন পদ্মানদী থেকে মাটি ও বালু কাটার সাথে ভাই টুনটুনির সাথে সেও জড়িত ছিল। এ নিয়ে প্রতিপক্ষ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীর সাথে তাদের লোকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিপক্ষ ওই গ্রুপ মনার পক্ষের শাহিন নামের যুবলীগের এক কর্মীর মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় যুবলীগ কর্মী লিটন, লিখনসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরআগে পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সদরুল আলম পিন্টু আততায়ীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়। এই হত্যাকান্ডে নিহত মনার ভাই টুনটুনিকে আসামী করা হয়। টুনটুনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। যুবলীগের পাকশীর নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের এসআই সুজাউল এবং ছাত্রলীগ কর্মী মনাসহ এপর্যন্ত পাকশীতে ৮টি হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকান্ডের ঘটনার সুরাহা হয়নি আজো। এসব হত্যাকান্ডের কোন সুরাহা না হওয়ায় পাকশীতে একের পর এক হত্যাকান্ড সংঘঠিত হচ্ছে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
