ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : দুধ উৎপাদনে দেশের অন্যতম উপজেলা পাবনার ভাঙ্গুড়া। তাই ঈদের আগে ও পরে দুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই উপজেলা থেকে দুধ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা। তবে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী দুধের সঙ্গে পানিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ মিশিয়ে এসব দুধ বাজারজাত করছে। সোমবার উপজেলা ভবানীপুর গ্রাম থেকে বগুড়ার এক ব্যবসায়ী অর্ধেক পানি মিশিয়ে দুধ নিয়ে যায়। এ সময় বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য একাধিকবার মোবাইলে কল করেও পায়নি। জানা যায়, উপজেলার ১১৩টি গ্রামে কৃষি পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি ছোট-বড় দুগ্ধ খামার রয়েছে অধিকাংশ কৃষকের। তবে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর, চরভাঙ্গুড়া ওপার ভাঙ্গুড়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে দুধ উৎপাদন হয়। এসব গ্রামের একজন কৃষক দিনে দুই থেকে চারশত লিটার দুধ উৎপাদন করে। এসব কৃষকদের দুধ সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠায় উপজেলায় প্রায় অর্থ শতাধিক প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সমবায় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এ বছর ঈদের পরে গত তিনদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উপজেলার এইসব গ্রামে থেকে দুধ সংগ্রহ করছে দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা। এদের মধ্যে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী ১০০ লিটার দুধের ড্রামের মধ্যে আগে থেকেই প্রায় ৫০ লিটার পানির সমপরিমান বরফ রেখে দেয়। দুধ রাখার পরে এসব বরফ বলে মিশে যায়। এ সময় দুধের ঘনত্ব ধরে রাখতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কস্টিক সোডা, লবণ ও চিনি ব্যবহার করে। গত দুই সপ্তাহ আগে ভবানীপুর গ্রামের শামীম আহমেদ নামে এক ব্যক্তি দুধের সাথে এসব ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে অর্থদণ্ড দেন। এদিকে সোমবার সরজমিনে ভবানীপুর গ্রামে দেখা যায়, বগুড়া থেকে কিতাবা আলী নামে এক দুগ্ধ ব্যবসায়ী মাছের আড়ৎ থেকে বরফ কিনে নিয়ে এসে দুধের ড্রামে রেখে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সেই ড্রামে দুধ রাখা হচ্ছে। এদিন ওই ব্যবসায়ী একটি ট্রাকে দশটি ড্রামে অর্ধেক পানি মেশানো একহাজার লিটার দুধ বগুড়াতে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। গত রবিবার এমন ঘটনার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বারে কল করেও পাওয়া যায়নি। দুধে বরফ মেশানোর সময় প্রত্যক্ষদর্শী ইকবাল হোসেন বলেন, সকলের সামনেই বরফ নিয়ে এসে ড্রামে রাখল। পরে সেই ড্রামে দুধ ঢালা হলো। এই অপকর্ম রুখতে উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল নাম্বারে কল করে পাওয়া যায়নি। ওসিকে জানালেও তিনি উপজেলা প্রশাসনের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন খামারি বলেন, কৃষকরা খাটি দুধ ম্যানেজারদেরকে দেয়। কিন্তু ম্যানেজাররা সেই দুধে ভেজাল মিশিয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়ে কোম্পানি অথবা ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা এসব বিষয় জেনেও কোন শক্ত ব্যবস্থা নেয় না। এসময় ভেজাল দুধ ব্যবসায়ী কিতাব আলীকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, দুধে ভেজাল মেশানোর বিষয়টি দেখবে উপজেলা প্রশাসন। তাই অভিযোগকারীদেরকে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করতে বলি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বিশ^াস রাসেল হোসেন বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
