স্টাফ রিপোর্টার : সদ্য স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাঞ্চলের জনসভায় ঝাকড়া চুলের হালকা পাতলা যে যুবকের জ¦ালাময়ী বক্তব্য লাখো জনতাকে উজ্জীবিত করতো বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদ মো. আহসান হাবিব আর নেই। তিনি ৭ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় নিজবাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি রাজিউন। মৃত্যৃকালে স্ত্রী ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে গেছেন। নিজ প্রতিষ্ঠিত রানীনগর বিলগাজনা হাই স্কুল মাঠে বাদ আছর জানাযা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবরস্থ করা হয়। এর আগে উপজেলা প্রশাসন তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আদসান হাবিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ তার বাড়িতে হাজির হন। পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, রানীনগর ই্উনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল আলম পীযুষ. সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ বিশ^াস গভীর শোক জানিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। আহসান হাবিব সুজানগর উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের বৃমালঞ্চি গ্রামের বয়েজ উদ্দিন বিশ^াসের ছেলে । তিনি পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পশ্চিম পাকিস্থানে চাকরি করাকালে ছুটিতে দেশে আসেন।এর পর বঙ্গবন্ধু ৭ ই মার্চ রেসকোর্সে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে আহসান হাবিব মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করতে হাট বাজােের ড্রামের উপর দাড়িয়ে বক্তৃতা করেন। পাকসেনা প্রতিরোধে রাস্তাঘাট বন্ধের ঘোষণায় তিনি গাছ কেটে রাস্তা অবরোধে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন। এরপর তিনি ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৭ নং সেক্টরে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। আহসান হাবিব স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তা সম্পাদক কামাল লোহানী,আলতাফ মাহমুদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন।তিনি নিয়মিত যুদ্ধক্ষেত্রের খবর কামাল লোহানিকে পাঠাতেন আর স্বাধীন বাংলা বেতারে তা প্রচার করা হয়।দেশ স্বাধীনের পর সুজানগর উপজেলার প্রত্যন্ত বিলপাড় রানীনগরে তিনি ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি আহসান হাবিব তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও ত্রাণ ও পুর্ণবাসন মন্ত্রী এ এইচএম কামরুজ্জামানকে নিয়ে এসে রানীনগর বিলগাজনা হাই স্কুল ও সড়কের উদ্বোধন করেন। এ সড়কটিই লোকের মুখে মুখে আহসান হাবিব সড়ক নামে খ্যাত। ১৯৭২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নগরবাড়ি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ উদ্বোধনীতে লাখো জনতার সমাবেশে আহসান হাবীবের বক্তব্য শুনে আবেগ আপ¬ুত বঙ্গবন্ধু আহসান হাবিবকে হেলিকপ্টারে ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নং বাসায় নিয়ে যান। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু যেখানেই জনসভা করেন সেখানে আহসান হাবিব মঞ্চে উঠে জ¦ালাময়ী বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমাদৃত হন।বঙ্গবন্ধু তার বক্তব্য শুনে একাধিক মঞ্চে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।৭৫ এ বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের পর তিনি গ্রেফতার হন। পাবনা ক্যাডেট কলেজ (সাবেক মডেল স্কুল) সেনা ক্যাম্পে আহসান হাবিবকে অকথ্য নির্যাতনের পর জেলে রাখা হয়।তিনি দীর্ঘদিন জেলে থাকাকালে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ৮০ দশকে তিনি নগরবাড়ি ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে ঘুরার পর ঢাকা স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় বেশকিছু দিন স্থায়ী হন। এরপর জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দলের শীর্ষ নেতা আসম আব্দুর রব তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি করে চিকিৎসা করেন। তার পওে একটু সুস্থ হলে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। শারিরীক অসুস্থ্যতাসহ বার্ধক্যজনিত কারণে নিজবাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
