জয়নুল আবেদিন রানা : সাঁথিয়ায় সততা ক্লিনিকে অপারেশনের সময় ভুল চিকিৎসায় ছুবা খাতুন শেফালি (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলা মসজিদের সামনে সততা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শেফালির বাবার সাথে ৭ লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে নিয়ে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করেন। জানা যায়, উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া গ্রামের মাসুদ আলীর স্ত্রী ছুবা খাতুন শেফালিকে ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে সততা ক্লিনিকে সিজার করেন ডাক্তার রওশনারা রিতা। অপারেশনের পর থেকেই ছুবা খাতুন শেফালির অবস্থা অবনতি হতে থাকে। অপারেশনের পরের দিন বুধবার ১ অক্টোবর তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠালে আশেপাশের মানুষ জানতে পারলে সমস্যা হতে পারে। তাই তারা কৌশলে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনায় নিয়ে যেতে বাধ্য করেন রোগীর স্বজনদেরকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনার গাড়িতে তুলতেই কিছুক্ষণের মধ্যেই ছুবা খাতুন শেফালি মারা জান। ধুলাউড়ি ইউনিয়নের বারোয়ানি গ্রামের নাজিম উদ্দীন বলেন, কিছু দিন আগে সততা ক্লিনিকে ডাক্তার রওশনারা রিতা আমার মেয়ে সাদিয়াকে সিজার করেছিলো। সিজারের পরই পেটের ভিতরে ইনফেকশন হয়। আমার মেয়েকে সততা ক্লিনিকে নিয়ে আসলে তারা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। মেয়েকে নিয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে অনেকদিন চিকিৎসার পর আমার মেয়ে কোনমতে বেঁচে আছে। আমি আমার জানামতে এই সততা ক্লিনিক নামের কশাইখানায় কাউকেই যেতে দেইনা। ছুবা খাতুন শেফালির স্বামী মাসুদ হোসেন বলেন, তাদের ভুল চিকিৎসাতেই আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তারা বুধবার সকালে বললেও আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা পাবনায় নিয়ে যেতাম। অপারেশনের পর থেকেই আমার স্ত্রীর অবস্থা অবনতি হতে থাকে। কৌশলে তারা আমাদের বুঝতে দেয়নাই। বাজারের দোকানপাট বন্ধ হওয়ার পর হটাৎ রাত সাড়ে ১১ টার সময় তারা বলেন রোগীর অবস্থা খারাপ দ্রুত পাবনা নিতে হবে। তারা আমার স্ত্রীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আমি বারবার আমার স্ত্রীর রিপোর্ট দেখতে চেয়েছি কিন্তু তারা দেখতে দেয় নাই। আমার তিনটা মেয়ে তাদেরকে কিভাবে আমি মানুষ করবো সেই চিন্তায় আমার খাওয়াদাওয়া বন্ধ। আমার একটাই প্রশ্ন প্রশাসনের নাকের ডগায় উপজেলা সদরে সততা ক্লিনিক নামের এই কশাইখানা কিভাবে থাকে। এলাকাবাসী বলেন, মাঝে মধ্যেই সততা ক্লিনিকে এমন ঘটনার কথা শোনা যায়। আবার টাকা পয়সা দিয়ে মিটমাট করিয়ে ফেলে।কারণ এই সব জায়গায় অপারেশন বা সিজার হয় বেশিরভাগ গরীব মানুষ। তবে উপজেলা সদরে এমন ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। আমরা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সততা ক্লিনিকের পরিচালক নাজিম কাজী বলেন, আমাদের ক্লিনিকে এমন কোন ঘটনা ঘঠেনি।আপনারা বাজারের দোকানপাট এবং আশেপাশের মানুষের কাছে জানতে পারেন।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
