স্টাফ রিপোর্টার : ১৮৭৬ সালের পহেলা জুলাই প্রতিষ্ঠিত প্রথম শ্রেনীর পাবনা পৌরসভার পৌর এলাকায় বসবাসকারী পৌরবাসীর জীবনমানের নাকালদশায় তাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত বর্তমানে। শহরের প্রতিটি মহল্লার রাস্তাঘাট দিনে দিনে হেরিং বোন এ পরিনত হবার উপক্রম। কোনো কোনো রাস্তাতে রিকশা ও অটোবাইক চালকেরা যেতে চাননা। সদর হাসপাতাল সড়কে রুগীও এখন স্বজনেরা নিয়ে যান পথ ঘুরিয়ে। আতাইকুলা সড়কের মোজাহিদ ক্লাব পর্যন্ত সড়কে মানুষ যান আর দিনভর অকথ্য ভাষায় স্মরণ করেন পৌর কর্তৃপক্ষকে। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়কে অনেক নারী রিকশাতে যেতে চাননা, রওয়ানা দেন পায়ে হেটে। পুরো শহরে নেই ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টি হলে লুঙ্গি তুলে পথ পাড়ি দেন মানুষ। পাবনা জেনারেল হাসপাতাল চত্বর, ডায়াবেটিক হাসপাতাল চত্বর, আতাইকুলা সড়ক, শালগাড়িয়া মাঠপাড়া, রাধানগর মাঠপাড়া, বাংলাবিড়ির গলিসহ সর্বত্র পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। পুরো শহর যেনো দিন দিন পরিনত হচ্ছে আবর্জনার শহরে। নানা মহল্লায় ঠিকমতো আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছেনা, পরে থাকছে দীর্ঘসময়। অটোবাইক ও অটো রিকশার দৌরাত্মে যানজটে পড়ে বেহাল অবস্থা নগরবাসীর। একজন শিক্ষাবিদ বললেন, বৃষ্টি হলে তো পৌরসভার ভেতরেই পানি জমে থাকে দীর্ঘসময়। পৌর প্রশাসক তো গাড়ি নিয়ে ঢোকেন, তাই উনার তো পা ভেজে না। ভিজে যায় আমাদের যারা পৌরসভাতে কাজে আসি। ৫ আগষ্টের ক্ষমতার পালা বদলের পরে পৌর কর্তৃপক্ষ কি করেছে পৌরবাসীর জন্য সেটা দৃশ্যত তারা দেখতে পারেনি। শহরের প্রতিটি রাস্তাতে জায়গায় জায়গায় ছোটো ছোটো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় নানা জায়গায় সম্প্রতি নিম্নমানের খোয়া ফেলে রাখা হয় এবং রাতের আঁধারে সেই খোয়া গুড়িয়ে রাস্তাতে বসানো হয়েছে ও হচ্ছে। যাকে পৌরবাসীর কাছে এক ধরনের গ্যাটিস মারা বলে মনে হচ্ছে বলে জানান একজন সমাজ সচেতন শিক্ষাবিদ। গত এক বছর ধরে যানজট, অবৈধ স্থাপনা, লাইট, ময়লা ব্যবস্থাপনা, ড্রেনের লাজুক অবস্থা ও রাস্তা ঘাটের বেহাল অবস্থা হয়েছে, যা এখন আরও করুণ অবস্থা। যেনো অভিভাবকহীন পৌরবাসী তাদের দেখার কেউ নেই। অবস্থা দেখে মনে হয় কোনো জবাবদিহিতাই নেই। তবে দুর্গোৎসব উপলক্ষে শহরের কিছু স্থানে কিছু লাইট লাগিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ, তবে তা পুরো পৌর এলাকাতেও নয়। নানা মন্দিরের পাশর্^বর্তী স্থানগুলোতে লাগিয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাইছেন বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী পাবনা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসকের নিস্ক্রিয়তা ও পৌরবাসীর দুর্ভোগ ঘিরে সাধারন মানুষের স্ট্যাটাস উঠে আসলে নড়ে চড়ে বসেন পৌরসভার প্রশাসক। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল (৩০/০৯/২০২৫) শহরের বিভিন্ন স্থানে একটি ট্রলিতে করে খোয়া নিয়ে নিয়ে ফেলেছেন, ব্যস্ততাঘেরা দিন কাটিয়েছেন, নজর কেড়েছেন পৌরবাসীর, ছবিও তোলা হয়েছে অনেকগুলো যে তিনি ব্যস্ত আছেন। এরপরে এই ছবিগুলো দিয়ে পত্রিকা অফিসগুলোতে লোক মারফত মেইল করা হয়েছে, সাথে দেওয়া হয়েছে বিশাল উন্নয়নের রচনা। এসবের মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের নিস্ক্রিয়তাকে আড়াল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে মনে করেন বিদগ্ধমহল। তারা বলেন, পৌর প্রশাসকের প্রতি সাধারন মানুষের প্রত্যাশার জায়গাটি পুরণ হচ্ছে না। তাদের নাগরিক জীবন যাত্রার মান ক্রমান্বয়ে নিম্নস্তরে পৌছে যাচ্ছে দিন দিন। পৌরবাসীর প্রত্যাশা পৌর এলাকাতে বসবাসকারীরা তাদের যথাযথ নাগরিক সুবিধা পাবেন। উল্লেখ্য, পাবনা পৌরসভা বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার পাবনা সদর উপজেলার অন্তর্গত ‘ক’ শ্রেণির একটি পৌরসভা। এই পৌরসভাটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন পৌরসভা অথচ জীবনমানের দিক দিয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে এই পৌর এলাকার সাধারন মানুষ।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

