সংবাদদাতা : রাণী ভবানীর রাজত্বকালে প্রতিষ্ঠিত জেলার ঈশ^রদী উপজেলার মারমী কালী মন্দিরের দিঘিতে এবারে পূণ্য বারুনীর স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১ টায় এই প্রথম বার মারমী কালীমন্দিরের দিঘিতে বারুনী স্নান উৎসব পালিত হয়। স্নান উৎসব উদ্বোধন করেন মন্দির মারমী মন্দির কমিটির সভাপতি ড. নরেশ চন্দ্র মধু। এসময় সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য বিনয় জ্যোতি কুন্ডু, কোষধ্যক্ষ সন্তোষ কুমার সরকার, স্নান উৎসব পরিচালনায় ছিলেন রতন কুমার সাহা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গৌর সেন, প্রেম দত্ত, রতন অধিকারী, প্রদীপ কর্মকার, নীরমনি কুন্ডু ও সুনীল কর্মকারসহ স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্নান উৎসবে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ভক্ত যোগ দেন। স্কন্দ পুরাণে লেখা আছে যে চৈত্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে শতভিষা নক্ষত্র যোগ হলে সেই তিথি বারুণী নামে পরিচিত। হিমালয় কন্যা গঙ্গার অপরনাম বারুণী। বারুণী স্নান এখানে গঙ্গা স্নানেরই প্রতিরুপ। শাস্ত্র মতে কোন বছর যদি ঐদিনটি শনিবার হয় তবে ঐ বারুণী স্নান অসাধারণত্ব লাভ করে মহা বারুণী স্নান রুপ লাভ করে। কথিত আছে, রানী ভবানী নাটোর এস্টেটের ‘জমিদার’ স্বামী রাজা রামকান্ত মৈত্র (রায়)-এর মৃত্যুর পর তিনি জমিদার হন এবং তিনি রাজত্বকাল ছিল ১৭১৬ থেকে ১৮০৩ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন। মারমী মন্দির বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহাসিক মন্দির। নাটোর জেলার রানী ভবানী রাজ্যের রাজা ভাদু কুমার রায় ভাদুরের জীবনবৃত্তান্তের সময় ১৩.৫৯ একর জমির মধ্যে ১৩.৫০ একর জমিতে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরটি ১৩.৫০ একর জমির মধ্যে ২.৮ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত। রাজা ১১.০২ একর জমিতে একটি পুকুর খনন করেন যাতে এলাকার পানীয় ও স্নানের জল নিশ্চিত করা যায়। জীবনবৃত্তান্তের সময়, রানী ভবানী সময়ে একদল সুবিধাবঞ্চিত মানুষ পুকুরের ধারে বসবাসের জন্য বসতি স্থাপন করে এবং তারা দীর্ঘ বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে। স্নান উৎসব উদ্বোধনকালে ভক্তদের উদ্দেশ্যে সভাপতি ড. নরেশ মধু বলেন, আমাদের সকল ঐক্যবদ্ধভাবে মন্দিরের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। মন্দির সকলের সকল ভেদাভেদ ভুলে সনাতনী সংস্কৃতি রক্ষায় একসাথে কাজ করতে হবে। মারমী মন্দিরে বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ঐ এলাকা হিন্দু আদিবাসি পরিবার মন্দির থেকে সুযোগ পাচ্ছে এবং অন্যরা মন্দির থেকে উপকৃত হচ্ছে। মন্দিরের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এবং এত বড় সম্পত্তি রয়েছে যে আমাদের হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে নিয়মিত পূজা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। মন্দির/মন্দির ছাড়া প্রার্থনার জন্য ঘর, উৎসব আয়োজন, পুরোহিতের থাকার ব্যবস্থা এবং সীমানা প্রাচীরের ব্যবস্থা থাকলে মন্দির প্রাঙ্গণে একটি অতিথিশালা প্রয়োজন। পূজার সময় ভক্তদের মন্দির প্রাঙ্গণে আশ্রয় নেই এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে তাদের আশ্রয় নেওয়ার কোনও বিকল্প থাকে না। তাই মন্দির রক্ষার জন্য নির্মাণ, নিয়মিত পূজা নিশ্চিত করা, জমি সংরক্ষণ এবং বৃহত্তম পুকুরের স্নান উৎসবের জন্য ঘাট পুননির্মাণ অপরিহার্য।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

