মাসুদ রানা : শিম দেশের অন্যতম লতা জাতীয় শীতকালিন সবজি। গ্রীস্মকালীন সবজি হিসেবে আগাম জাতের শিমের আবাদ হচ্ছে আটঘরিয়ায়। শিম লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা দিন-দিন এই আবাদের দিকে ঝুঁকছে। ভালো ফলন ও বেশি দামে শিম বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকেরা। শীতের আগেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে অটো শিম। ভালো ফলন ও বেশি দামে শিম বিক্রি করতে পেরে খুশি তারা। অসময়ে শিমের আবাদ সম্পর্কে জানতে গ্রামের মাঠের দিকে তাকালেই দেখা যায় জমি জুড়ে শিম আর শিমের মাঠ। মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ ফুট উচু বাঁশের মাচা তৈরী করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশিল অটো জাতের এই শিম। বিকাল হলেই চাষীরা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে শিমের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারন বিকালের দিকে শিমের পরিচর্চার উপযুক্ত সময়। চলতি মৌসুমে আটঘরিয়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চাষিরা বিভিন্ন জাতের শিম চাষ করছেন। এর মধ্যে শিমের উল্লেখযোগ্য জাত হলো- অটো, রূপবান, চকলেট, কেরালা জাতের শিম আবাদ করেছে বেশি। এছাড়াও স্থানীয় জাতের শিমও আবাদ হয়েছে প্রচুর পরিমাণের। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে ফলন ভাল হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা । তবে দাম ভালো পাওয়ায় শিম আবাদের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। কৃষকরা জানান, অতিমাত্রায় বৃষ্টি হলে এবং পরে গরমে গাছের ফুলগুলো ঝড়ে পড়ে। একই সঙ্গে গাছে পঁচন দেখা দেয়। সব এলাকায় কমবেশি শিম আবাদ হলেও উপজেলার মাজপাড়া, চাঁদভা, সড়াবাড়িয়া, খিদিরপুর, দেবোত্তর এবং আটঘরিয়ার কিছু এলাকায় বেশি পরিমাণে আগাম জাতের শিম আবাদ হয়েছে। ধলেশ^র গ্রামের শিম চাষি মোস্তফা জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে আগাম জাতের শিম চাষ করছেন। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুব খুশি। ওসমান জানান,আগাম জাতের শিম আবাদ করে আসছি। প্রতি বছরই কম বেশি লাভ হচ্ছে। তার এই শিম আবাদ করা দেখে এলাকায় অনেকেই এগিয়ে এসেছেন শিম চাষে। তিনি আরো জানান, আগাম জাতের এই শিমের বীজ জমিতে সাধারণত জুন মাসে বপন করতে হয়। বীজ বপনের ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর গাছ গুলোতে ফুল আসতে শুরু করে। বৃষ্টিতে বা গাছগুলো মারা না গেলে দীর্ঘ ৫ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। একই এলাকার শিম চাষি রওশন জানান, এবছর আমি আমার ২বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো। ইতিমধ্যে আমি ১০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি। আশা করছি আগমী শনিবারে এক চালানেই ৪০ হাজার থেকে ৫০হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবো ইনশাল্লাহ। কৃষক ওসমান জানান, তিনি এবছর ৫ বিঘা জমিতে অটো জাতের শিম চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ১ লাখ টাকা করে শিম বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সজিব আল মারুফ জানান, শিম চাষে এ উপজেলা উন্নতম ও এখানকার শিমের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। আগাম শিম হওয়ার কারনে কৃষক লাভবান হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন এই শিম নিরাপদ ভাবে উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা পুরণ করে দেশের বাইরে রফতানী করতে পারবো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই চেষ্টা করছে। গত বছর এই উপজেলায় আগাম জাতের শিম চাষ করা হয়েছিলো ১৫’শ হেক্টর। আর এবছরে চলতি মৌসুমে ১৫’শ ৫৩ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে। যা আগের তুলনায় ৫৩ হেক্টর বেশি।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
