ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে ঢাকায় এবং তিনজনকে রাজশাহীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গুড়ার খানমরিচ ইউনিয়নের পুকুরপাড় গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে আটক করে আদলিতে সোপর্দ করেছে। রাতে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, ওসি শফিকুল ইসলাম এবং সেনা সদস্যরা হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। অনুসন্ধানে জানা যায়, পুকুরপাড় গ্রামে উদয় সংঘ নামে একটি সামাজিক সংগঠন রয়েছে। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। এই সংগঠনের আওতায় রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের মাছ চাষের পুকুর। বেশ কিছুদিন ধরে এই সংগঠনের কার্যালয়ের চাবি সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সালাম ফকিরের কাছে ছিল। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির উপদেষ্টা ফয়জুল করিম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সানোয়ার হোসেন, আহম্মদ আলী, আব্দুর রাজ্জাক ও পুকুরপাড় আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আলী সালাম ফকিরের কাছ থেকে চাবি চাচ্ছেন। কিন্তু সালাম ফকির জানায় চাবিটি ক্লাবের সদস্য হেলালের কাছে রয়েছে। এ অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় হেলালকে ডেকে নিয়ে এসে চাবিটি আওয়ামী লীগ নেতার কর্মীদের কাছে দেয় ক্লাবের সদস্যরা (বিএনপি কর্মী)। এরপরেও আওয়ামীলীগ নেতা ফয়জুল, সানোয়ার, রাজ্জাক, রওশন ও আহম্মদ আলীর নেতৃত্বে শতাধিক নেতা কর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হেলাল সহ বিএনপি নেতাকমীদের উপর হামলা চালায়। এতে ২০/২২ জন বিএনপি নেতাকর্মী মারাত্মক আহত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন, পুকুর পাড় গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী কালাম, আকরাম, সাদ্দাম, কালাম-২, গাজী, জব্বার, ঈমন, মমিন, ছাব্বির, শাহিন, হেলাল, তালেব, আলো প্রমানিক। এছাড়া আহত নিরজাপ, সাহাদত, ছানোয়ার হোসেনকে রাজশাহীতে এবং আব্দুল মালেককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় পুকুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী জামাল উদ্দিন ২৫ জনের নাম সহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে পুলিশ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির উপদেষ্টা ফয়জুল করিম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সানোয়ার হোসেন,মপুকুরপাড় আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আলী, শাহ আলম, আশিক সরদারকে আটক করে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে পুকুরপাড় গ্রামের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি। তবে পাশর্^বর্তী শ্রীপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য জিন্নাহ আলী বলেন, শুনেছি ক্লাবের চাবি এবং টাকা পয়সা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ২০-২৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৫ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা ও ঢাকা পাঠানো হয়েছে। একইসাথে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
