আটঘরিয়া প্রতিনিধি : উপজেলায় মুরগির খামারের নিচে মাছের চাষ করা হয়েছে। খামারের মুরগির বিষ্ঠাই ব্যবহার করা হচ্ছে মাছের খাদ্য হিসেবে। মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তা মানছেন না খামারিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগির বিষ্ঠায় থাকা জীবাণু মাছের পেটে গিয়ে রোগবালাই বাড়ছে। আবার সেই মাছ খেয়ে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্যিক ও সমন্বিত খামারের মাছের প্রধান খাদ্য হচ্ছে মুরগির বিষ্ঠা। উপজেলার বিভিন্ন মুরগির খামার থেকে বিষ্ঠা সংগ্রহ করে ফেলা হয় পুকুরে। এলাকার বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তি দ্বারাই এই খামারের ব্যবসা চলছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। তবে মাছচাষিরা জানান, মাছের খাদ্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো পুষিয়ে উঠতে পারছেন না তাঁরা। ফলে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন। একশ্রেণির ব্যবসায়ীর মাধ্যমে উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার মুরগির খামারগুলো থেকে বিষ্ঠা সংগ্রহ করে থাকেন তাঁরা। কম দামে পাওয়া ওই বিষ্ঠা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও মাছের খাদ্য হিসেবে খামারে তা ব্যবহার করছেন মাছ চাষিরা। উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলায় ২৬৫২জন মাছ চাষি রয়েছেন। এর মধ্যে ২০০০-২২০০ জন বাণিজ্যিক মৎস্য খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ হয়। খামারগুলোতে বছরে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ হাজার ৮৪০ মে. টন মাছ। উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, মুরগির বিষ্ঠায় অ্যান্টি বায়োটিক রেসিডিও, ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিজ ইনফেকট্যান্ট থাকে। মুরগির বিষ্ঠা মাছে খাওয়ার পর সেই মাছ খেলে সেগুলো মানবদেহে প্রবেশ করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তা ছাড়া, মুরগির বিষ্ঠায় থাকা অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস পুকুরের পরিবেশ নষ্ট করে। মাছচাষিদের মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার না করার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা সেমিনারের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন, মুরগি পালনে নানা রকম অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। যেগুলো বিষ্ঠার মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে, এগুলো ধ্বংস হয় না। এই সব খামারের মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রবেশ করে, যা মানবদেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। বিশেষ করে কিডনি ও লিভারের বেশি ক্ষতি করে। তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষ্ঠার ব্যবহার বন্ধে জনপ্রতিনিধি, সমাজ সচেতন মানুষসহ সবাইকে নিজের অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
