স্টাফ রিপোর্টার : চলে গেলেন সত্তর দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক সচেতন কবি, পাবনার সন্তান, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বনামেখ্যাত কবি ও গল্পকার মাকিদ হায়দার। গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরায় বাসায় শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহে…….রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। অত্যন্ত সদালাপী ও আচরণে বিনয়ী কবি মাকিদ হায়দার অনেকদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলা সদরের পৌর এলাকার দোহারপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন তিনি। তার পিতা হাকিমউদ্দিন শেখ ও মা রহিমা খাতুন। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। মাকিদ হায়দারের ভাই রশীদ হায়দার, জিয়া হায়দার, দাউদ হায়দার, জাহিদ হায়দার, আবিদ হায়দার ও আরিফ হায়দার সকলেই সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। মাকিদ হায়দারের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রোদে ভিজে বাড়ি ফেরা (১৯৭৬), আপন আঁধারে একদিন (১৯৮৪), ও পার্থ ও প্রতিম (২০০৭), কফিনের লোকটি (২০১১), যে আমাকে দুঃখ দিলো (২০১২), প্রিয় রোকানালী (২০১৩), মুমুর সাথে সারা দুপুর (২০১৪)। এছাড়াও তার একটি গল্পগ্রন্থ ও একটি প্রবন্ধের বই রয়েছে। মাকিদ হায়দার ছড়ার সঙ্গে লিখতেন গল্প, কবিতা, গান এবং প্রবন্ধ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন কবি হিসেবে। গোটা জীবন তিনি কবিতার পেছনে ব্যয় করে গেলেন নিভৃতে এবং নির্মোহে। তিনি কবিদের মেলে এবং মেলায় আসতেন এবং নানা অনুষ্ঠানে যেতেন। কিন্তু কোথাও কোনো লোভ এবং মোহ থেকে চেতনে-অবচেতনে নিজেকে রক্ষা করতে পারতেন তিনি। এখনকার যান্ত্রিকতার এলোমেলো সময়ের মঞ্চের আসন, পদ ও পদবীর কাঙাল কবি গোষ্ঠী থেকে মাকিদ হায়দার আলাদা ছিলেন। ঢাকা বইমেলা এলে তাকে পুরোটাসময় পাওয়া যেতো মেলাচত্বরে। পাবনার বইমেলার খবর পেলে চলে আসতেন, ঘুরতেন মাঠে জমপেশ গল্প করতেন স্থানীয় কবি সাহিত্যিকদের সাথে। নিজের গোছানো জীবনযাত্রাতে সকলের কাছে নিজেকে প্রিয়ভাজন করেন তুলতে সামর্থ্য হয়েছিলেন কবি মাকিদ হায়দার। পাবনাতে আসলে সন্ধ্যাতে ঢুকে রাতভর আড্ডা দিতেন পাবনা প্রেসক্লাবে। এখানকার সাংবাদিকদের সাথে তার ছিলো আত্মিক এক ঘনিষ্ঠতা। এদিকে গতকাল বেলা বারোটার দিকে কবি মাকিদ হায়দারের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে অসংখ্য মানুষ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঢাকার উত্তরা জামে মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে মরদেহ নিয়ে আসা হয় পাবনাতে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পাবনার সাংস্কৃতিক কর্মী, নাট্যকর্মী, সাংবাদিকবৃন্দসহ তার পরিচিতজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে। গতকাল রাত এগারোটার দিকে শহরের রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে কবি মাকিদ হায়দারের মরদেহ কিছুসময় রাখা হয়, সেখানে পাবনার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আজ সকাল আটটায় আরিফপুর সদর গোরস্থান ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ও শেষে তাকে আরিফপুর সদর গোরস্থানে দাফন করা হবে। মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে নামাজে জানাজায় শরিক হতে ও তার জন্য দোয়া করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
