ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : সরকারি খাল দখল ও অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণের কারণে শতাধিক বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে ভাঙ্গুড়ায়। উপজেলার পাথরঘাটা মৌজায় বেড়ের বিল এলাকায় এসব জমিতে প্রায় সারা বছরই জলাবদ্ধ থাকায় ফসল চাষাবাদ করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছে কৃষকরা। এতে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অর্ধশত কৃষক লিখিত আবেদন করেছেন। জানা যায়, এক যুগ আগেও উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের পাথরঘাটা মৌজার পশ্চিমাংশে বেড়ের বিল এলাকায় শতাধিক বিঘা জমিতে কৃষকরা বোরো ধান ও রবিশস্য ফসল আবাদ করত। বড়াল নদী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার খাল দিয়ে এই এলাকায় পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন হতো। বসতি এলাকায় খালের ওপর একাধিক কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ হয়েছে। এই খাল দিয়ে প্রতিবছর বন্যার পানি প্রবেশ করে এসব ফসলি জমিতে। কিন্তু এক যুগ আগে খালের উপর নির্মিত একটি কালভার্ট জমির সমতল ভূমি থেকে প্রায় দুই ফুট উঁচু হওয়ায় বন্যার পানি বের হয় না। বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে কিছু উচু জমিতে পানি শুকালেও নিচু অঞ্চলের জমিতে পানি থাকে প্রায় সারা বছর। এমনকি বৃষ্টির পানিও বের হতে না পেরে এসব জমিতে জমা হয়ে থাকে। ফলে গত এক যুগ ধরে এসব জমিতে ফসল চাষবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে অনেকে নিরুপায় হয়ে ফসলী জমি কেটে পুকুর করে ফেলেছেন। এদিকে গ্রামের বসতি অঞ্চলে খালের দুই পাশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দারা। একই সাথে সরকারিভাবে দীর্ঘদিন খনন না করায় খালটি ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় গ্রামের অর্থ শতাধিক কৃষক গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দখল উচ্ছেদ করে ও অপরিকল্পিত কালভার্ট অপসারণ করে পানি প্রবাহের জন্য খালটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন। রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেড়ের বিল এলাকার প্রবেশ মুখে একটি কালভার্ট রয়েছে। এটা জমির সমতল ভূমি থেকে উঁচু হওয়ায় বর্ষা ও বৃষ্টি মৌসুমের পানি জমি থেকে বের হয় না। এই সুযোগে গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আনসার আলী খাল ভরাট করে নিজস্ব খামারে যাওয়ার রাস্তা করেছেন। ২০ ফুট প্রশস্ত খালের তিন ফুট রেখে বাকি অংশ ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন তিনি। আরেক সরকারি কর্মচারী আবু সাঈদ খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। আরেকজন বাসিন্দা লিটন আলী খাল দখল করে বসত বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এভাবে গ্রামের অনেকেই খালের দু’পাশ দখলে নিয়েছেন। খাল দখলের বিষয়ে আবু সাঈদ বলেন, আমার জায়গাতেই আমি মাটি ভরাট করে দোকান নির্মাণ করেছি। সরকারি খালে নয়। এরপরেও সরকারিভাবে মেপে যদি দোকান খালের মধ্যে হয় ভেঙে নেব। অপর দখলদার আনসার আলী বলেন, আমি খালের ওপর সাকোঁ দিয়েছি। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা আছে। এরপরও প্রশাসন বললে সাকোঁ ভেঙে নেবো। লিটন আলী বলেন, কালভার্ট উঁচু হওয়ার কারণে পানি বের হয় না। এতে ফসল চাষবাস হয় না। খালের আর প্রয়োজন পড়ে না। তাই সকলে খাল দখল করে নিজেরা ব্যবহার করছে। গ্রামের কৃষক সোহাগ সরকার বলেন, শতাধিক বিঘা জমি সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে জলবদ্ধ হয়ে থেকে চাষাবাদ হয় না। এতে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দখলমুক্ত করে খাল খনন ও পরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গ্রামবাসী লিখিত আবেদন করেছে। গ্রামের ইউপি সদস্য জুয়েল আহমেদ বলেন, খালটি দিয়ে শুধু বন্যার সময় পানি প্রবেশ করে। কিন্তু সেই পানি আর বের হয় না। তাই খাল খনন ও পরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পূর্ব থেকেই অবগত করা হচ্ছে। এখন প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে এই শত বিঘা জমিতে ফসল চাষাবাদ সম্ভব হবে। উপজেলা বিএডিসি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, সরজমিনে ওই খাল পরিদর্শন করা হয়েছে। উর্ধ্বতন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, কৃষকদের আবেদনটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। অনাবাদি জমি চাষাবাদের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
