এস মুস্তাকিম সবুজ: বাহান্নর ভাষা আন্দোলন দেখা হয় নাই। কেমন ছিল সেই আন্দোলন? মায়ের মুখে আদর ভরা ‘মা’ বলে ডাক দেওয়ার ভাষা কেড়ে নেওয়ার কষ্ট থেকেই একুশের আন্দোলন। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার আরো নাম না জানা অনেকেই ভাষা ছিনতাই এর সেই দস্যুদের প্রতিহত করে শহীদ হয়ে আজ পৃথিবীতে অমর, তাইতো বার বার ফিরে আসে একুশে ফেব্রুয়ারী। ৫২ থেকে ৬৯ তারপর ৭১ ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে আর দুই লক্ষ ‘মা-বোনের’ লজ্জার বিসর্জনের বিনিময়ে, একটি লাল সবুজের পতাকা একটি দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নিয়ে বাংলাদেশ। আমরা ৫২ থেকে ২৪ ভাষা শহিদের রক্তের সেই প্রতিশ্রুতি কি রাখতে পেরেছি? এই তিয়াত্তর বৎসরের মধ্যে কি সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পেরেছি, এ দেশের শতকরা ১০০% বাংলা ভাষা ভাষির বসবাস। কিছু বিদেশী শতকরা ৫% হিসেবে আসে না, সেখানে যাতায়াতের যানবাহন বাসগুলি কয়টার বাংলায় নাম আছে। দূর পাল্লার সকল পরিবহনের নামই ইংরেজি শব্দে ব্যবহার হচ্ছে, কেও কি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে? কোন সামাজিক সংগঠন বা রাজনৈতিক সংগঠন একুশের চেতনায় উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করেছেন। কিছু দিন আগে পাবনাতে এক খাবার হোটেলে কফি খেতে গিয়েছিলাম সেখানে আমাকে এক যুবক খাবার তালিকা বই ধরিয়ে দিয়ে বললেন, কি খাবেন? দেখি খাবার তালিকায় সব নাম ইংরেজি শব্দ দিয়ে ভরা। আমার তো মনে হয় এই সব খাওয়ার হোটেলে একদিনও কি বিদেশীরা খেতে আসে, আমার মতো খারাপ ইংরেজি না জানারাই প্রতিদিন ঐ স্থানে খেতে যায়, তারা কি অবস্থায় পরে ভেবে দেখুন? এই তো কিছু দিন আগেও জানতাম পায়খানা বা প্রসাবখানা, তারপর আমরা একটু শিক্ষিত হওয়ার পর জানলাম টয়লেট ও বাথরুম। বৎসর দুই আগে একজন কে মোবাইলে রিং দিলাম ওপাশ থেকে বললেন, উনি ওয়াশরুমে, এখন ভাবি ঠিকই তো আছে এ তো এনালগ, ডিজিটাল এখন স্মার্ট যুগ চলছে। “ঐ গল্পেই আসি ছেলে আমার বিদেশ থেকে এসে ওয়াটার, ওয়াটার, করে মরে গেল, কিছুই করতে পারলাম না। হাইরে ওয়াটার আবার কি?” বর্তমান সময়ে আমাদের অবস্থা ওই বিদেশ ফেরত ছেলের মতো, গাড়ীর দরজায় দাড়ানো ব্যাক্তি বা গাড়ির পাশের ব্যাক্তিকে জিজ্ঞেসা করতে হয় ভাই অমক গাড়ী কোনটি, তারপর গাড়ীতে উঠতে হয়। পরিসংখ্যান হিসাবে বাংলাদেশের শতকরা আনুমানিক ৫২% জন কোনো রকম লিখতে বা পড়তে পারে ও শতকরা ৭২% জন স্বাক্ষরসহ পড়তে বা লিখতে পারে, আর ইংরেজি লিখতে বা পড়তে পারে শতকরা কোনো হিসাবে পড়ে না! তাহলে এ দেশের পরিবহনের নাম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বা খাওয়ার হোটেলের নাম খাদ্য তালিকাও আমরা ইংরেজি ব্যবহার দেখছি। আজ বাংলাদেশের সব কয়টি টিভি চ্যানেলে একুশের চেতনার নাটক, টকশো, আবৃতি দেখবো ও শুনবো। এইতো সেদিন শুনলাম বাংলাদেশের একটি আদালত বাংলায় রায় দিয়েছেন, এটা প্রশংসার যগ্য। ইংরেজী শব্দ দিয়ে মামলার রায় দিলে, এই রায় আমার মতে অর্ধশিক্ষিতরা কি পড়তে পারবেন? এবং যে রায় আদালত দিবেন তা উকিল সাহেবের কাছ থেকে বুঝতে হয় আমি মামলায় জিতেছি না হেরেছি! জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিচ্ছেন। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর বাংলা ভাষা আন্দোলন, মানুষের ভাষা এবং রাষ্ট্রীয় অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বা বৈশি^ক পর্যায়ে সাংবার্ষিক ভাবে গভীর শ্রদ্ধাও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদ্যাপন করা হয়। তাতে বাংলা ভাষা বা আমাদের ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগের কি লাভবান আমরা হয়েছি, সরকারি অফিস আদালত, ব্যংক অন্যান্য দফতরে কি বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে? আজ আমরা রাজপথ কাপিয়ে একুশে গান গেয়ে শহীদ মিনারে যাবো শ্রদ্ধা জানাতে, মিছিলে ব্যানার থাকবে বড় অক্ষরের, ব্যাক্তির নাম, রাজনৈতিক দলের নাম, ফুলের মালায় ও থাকবে মালা দান কারির নাম, তবে রাজপথে জুতা পায়ে হাটবো আর শহীদ মিনারের কাছে এসে তারাতারি জুতা, সেন্ডের খুলবো, কার আগে কে মালা দেবে এই নিয়ে খুনা খুনি হতে পারে সম্ভবত আর একুশের চেতনায় মিনার কাপিয়ে ভাষণও দিবো। একুশের চেতনা, একাত্তুরের চেতনা আর অন্তরে রাখবো ব্যক্তি স্বার্থের চেতনা?
সর্বশেষ
- বেড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সজীব আহ্বায়ক ও গিফারী সদস্য সচিব
- আটঘরিয়ায় নতুন ইউএনও তাহমিদুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ
- বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মানববন্ধন
- উত্তরণ পাবনার ১৯তম বর্ষ পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
- জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মরহুম আব্দুল কাদের মাস্টারের সহধর্মীনির দাফন সম্পন্ন
- সুজানগরে ভাড়ার ভারে যাত্রীরা দিশেহারা
- মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু তাকে বাঁচাতে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর
- ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
